ইসকনের বিরুদ্ধে ভক্তদের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সম্প্রদায়ের লোকজনের বিরুদ্ধে প্রবর্তক ভূমি অবৈধভাবে দখল, মন্দিরের নাম ব্যবহার করে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে পাচারের অভিযোগ এনেছেন প্রবর্তক সংঘ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী। একই সঙ্গে যৌথ চুক্তি অমান্য করা, পাহাড় কর্তন করে প্রকৃতি ও আকৃতি পরিবর্তন করা, প্রবর্তক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্যাতনেরও অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৬ জুন) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। ইসকন নাম ব্যবহারকারী গেরুয়া বসনধারি কর্তৃক প্রতর্বক সংঘের ভূমি আত্মসাৎ, প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের ভক্তদের দানের অর্থ লোপাট এবং অসংখ্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রবর্তক সংঘ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনকড়ি চক্রবর্তী বলেন, গত ১৩ থেকে ১৬ মে মধ্যে ইসকন একক দায়িত্বে নবনির্মিত প্রবর্তক মন্দিরের উদ্বোধন করেছে। প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্বোধন করা হলো প্রবর্তক সংঘের অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি ছাড়াই। এটি ইসকনের সাধুদের চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি উদাহরণ। প্রবর্তক সংঘের কোনও স্টাফ মন্দির প্রাঙ্গণে যেতে পারেন না। যেতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। শারীরিক নির্যাতন ও গালিগালাজ করা হয়। ইতোমধ্যে প্রবর্তক সংঘ থেকে মন্দিরে ওঠার সিঁড়িটি ইসকন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। যাতে প্রবর্তক সংঘের ভেতরের দিক থেকে মন্দিরে কেউ উঠতে না পারে। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মন্দির করে পূজা-অর্চনার জন্য পূজারি পুরোহিত নিয়োগ দেয়; এই পুরোহিত পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ভগবান ও ভক্তের মধ্যে পবিত্র আত্মিক বন্ধন সৃষ্টি করে। কিন্তু এখানের পুরোহিতরা মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে অর্থ আত্মসাতের জন্য।

তিনি আরও বলেন, দুদকের অভিযোগে আমরা উল্লেখ করেছি, ইসকন মন্দিরের নামে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। হাজার বছরের ঐহিত্য সমৃদ্ধ সনাতন ধর্মের পুরোহিতের পবিত্র কর্মকে ইসকন বিতর্কিত করেছে। চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায় ইসকনের এই হীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

প্রবর্তক সংঘের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে ইসকন। ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ইসকন সম্পর্কে প্রবর্তক সংঘের দেওয়া বক্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও আশ্রম বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পেরে তারা ইসকনের সাধুদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করে ভক্তদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। ইসকন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের বিগ্রহের নির্দিষ্ট ভূমির বাইরে প্রবর্তক সংঘের ভূমি দখল করেনি। বরং সংঘের কতিপয় অর্থলোভী ব্যক্তি একের পর এক সাধুদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ইসকন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরটি চট্টগ্রাম তথা দেশের সনাতনী সমাজের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার সনাতনী ধর্মপ্রাণ ভক্ত মন্দিরে এসে পূজা-অর্চনা করছেন। এসব দেখে মন্দিরের পরিবেশ বিনষ্ট করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে মন্দিরের বৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আমরা আশা করবো, অচিরেই তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।