চলছে বর্ষা। নাসিরনগরের মেদির হাওরে গিয়ে দেখা গেলো এ বছর পানি আসেনি পর্যাপ্ত। দেশি মাছের দেখা নেই বললেই চলে। বেকার বসে আছে হাওরপাড়ের অন্তত দুইশ’ জেলে পরিবারের সদস্যরা। আর্থিক সঙ্কটে পড়ে জেলেরা এখন দিন গুনছেন, কবে আসবে পানি, কবে ধরবেন মাছ।
হাওরপাড়ের একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, অন্যসময় আষাঢ়ের এ ভরা মৌসুমে ভোর থেকে জেলেপল্লীতে কর্মব্যস্ততা থাকতো। চলতি মৌসুমে হাওরে পর্যাপ্ত পানি না আসায় চিত্রটা ভিন্ন। জেলেপল্লী নীরব নিথর। জাল নিয়ে হাওরে যাওয়ার তাগাদা দেখা গেলো না কারওর ভেতর। নৌকাগুলো অলস পড়ে আছে ঘাটে। চিন্তা একটাই- সময়মতো মাছ না পেলে দাদনের টাকা শোধ করবে কী করে।
একই কথা বললেন জেলে গেন্টু দাস। ‘ঋন করে নৌকা, জাল কিনেছি। এখন বসে আছি হাওরের পানি বাড়ার অপেক্ষায়। অথচ এই মাসে হাওর থই থই করার কথা।’
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গেন্টু দাস বললেন, ‘আড়তদারের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি। আড়তে মাছ দিয়ে সেটা পরিশোধ করার কথা। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।’
পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সদস্য রতিকান্ত দাস
জানান, “হাওরপাড়, জয়নগর, চিংড়িপাড়া, ছেঙ্গাপুর এলাকার অন্তত দুই শ’ জেলে পরিবার এনজিও, দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনদের কাছ থেকে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রেখেছে। পরিশোধ করার কথা মাছ বিক্রি করে। কিন্তু প্রকৃতি তাতে সায় দিচ্ছে না। আবার করোনার কারণে বাজারে ক্রেতাও কম। সামনে লকডাউন। কী হবে বুঝতে পারছি না। অনেক পরিবারকে উদ্বাস্তু হতে হবে।’
এ ছাড়া অসহায় জেলে পরিবারগুলোকে নাসিরনগর উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর মেদির হাওর ও হাওরের উপর দিয়ে প্রবাহিত
লংগর নদীতে দেশি চিংড়ি, টেংরা, পুঁটি, বাইম, মলা, ঢেলা, পাবদা, আইড়, কাচকি, শোল, বোয়াল, মেনিসহ অন্তত শতাধিক প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়।