অভিযানে গিয়ে উদ্ধার করা ইয়াবা ও টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ আগস্ট) রাতে সাতকানিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে। একই ঘটনায় থানা পুলিশের এক সোর্সসহ আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) জাকারিয়া রহমান জিকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করবো না। আপনি এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
পরে এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
তবে থানা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর রাতে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার তিন পুলিশ সদস্য হলেন সাতকানিয়া থানার ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল বিমল চাকমা (৪৬), শাহ মোহাম্মদ হাসান (২৭), আরাফাত নাজিম উদ্দীন (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট ঢেমশা নাপিতের চর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতকানিয়া থানা পুলিশের ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের কনস্টেবল বিমল চাকমা, শাহ মোহাম্মদ হাসান ও আরাফাত নাজিম উদ্দীন কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে মাদক ও মাদক বিক্রির টাকা জব্দ করেন তারা। কিন্তু বিষয়টি ওসিসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের না জানিয়ে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও টাকার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেন অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যও বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার ঢেমশা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে তিন পুলিশ কনস্টেবল ও পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীসহ আট জনের বিরুদ্ধ মামলা করেন। এদের মধ্যে পুলিশ সোর্স সোলায়মান, মাদক ব্যবসায়ী বেলাল ও আরাফাতও রয়েছেন। মামলার পরপরই অভিযুক্ত তিন পুলিশ কনস্টেবলসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার অপর তিন জন হলেন মাদক ব্যবসায়ী হাসান, নাজিম ও বেলাল।