কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই দেবে গেছে ৩৯ লাখ টাকার সেতু

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির আমতলী ইউনিয়নের ডিপুর মুখ এলাকায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতু দিয়ে বর্তমানে লোকজন চলাচল করে। পণ্যবাহী যান চলাচলের অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। তার আগেই সেতুর গার্ডারে ফাটল ধরেছে। সেই সঙ্গে মাঝখান দেবে গেছে। ফাটল ঢাকতে দেওয়া হয়েছে সিমেন্টের প্রলেপ। নিম্নমানের কাজের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডিপুর মুখ এলাকার নদীটি দিয়ে পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করে। কিন্তু সেতুটি পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না করায় নৌ চলাচল বাধার মুখে পড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের অধীনে সেতু নির্মাণ করা হয়ে থাকে। বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ডিপুর মুখ এলাকায় আমতলী ও গুলশাখালী ইউনিয়নে যোগাযোগের সুবিধার্থে ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি। তবে কর্তৃপক্ষকে সেতুর কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই সেটি দেবে গেছে।

নিম্নমানের কাজের কারণে ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুর এই অবস্থা হয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনা ছাড়ায় সেতু নির্মাণের কারণে এর নিচ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে পণ্য পরিবহনে খরচও বাড়বে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু হানিফ বলেন, গত বছর সেতুটির অর্ধেক কাজ করে রেখে দেয়। এরপর এ বছর বাকি কাজ করে ঠিকাদার। সেতুর ছাদ ঢালাই করার সময় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। তখন স্থানীয় অনেকে সেতু নির্মাণ কাজের মান প্রশ্ন তুললেও কোনও সমাধান হয়নি।

আরেক বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, স্থানীয়রা অভিযোগ করলে ফাটল স্থানে বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঘষামাজা করে ঠিকাদার। পরে শুনেছি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই সেতু দিলে চলাচল করা মানে মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে চলা।

সেতুটি পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ না করায় নৌ চলাচল ব্যাহত হবে

তিনি আরও বলেন, বাঘাইছড়ি ও লংগদু—এই দুই উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার্থে সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। উল্টো এই সেতু যোগাযোগের নামে আরও বিপদ ডেকে আনলো।

স্থানীয় হারুন মিয়া বলেন, যে নদীর উপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে, তার দুই পাড়ের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা বেশিরভাগ নদীর উপর নির্ভরশীল। কারণ, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী নৌকা চলাচল করে। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে সেতুর কারণে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হবে। তাই পণ্য পরিবহনে খরচও বাড়বে। 

বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রাশেল চৌধুরী বলেন, স্থানীয়রা বিষয়টি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সেতু পরিদর্শন করেছি। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করেও সমাধান হয়নি। আমার ইউনিয়নে সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু কেউ আমার কাছ থেকে ছাড়পত্রও নেয়নি। 

তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নের জন্য আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করি। কিন্তু সেটা যদি নিম্নমানের হয় তাহলে আমাদের কষ্টগুলো কষ্টই থেকে যায়। আমরা চাই কাজগুলো যথা নিয়মে হোক। যাদের তদারকি করার কথা তারা যেন নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে।

সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ৩৯ লাখ টাকা

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলাম বলেন, সেতু দেবে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একই ইউনিয়নের একরাম পাড়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্মিত সেতুটির ছাদের অংশও খসে পড়েছে। চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান। 

বাঘাইছড়ি প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র অনুযায়ী, এই উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয়দের যোগাযোগের সুবিধার্থে মোট ১৯টি সেতু নির্মাণ করা রয়েছে।