ভাংচুরের শিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরাসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন এসে দেখেছেন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। সবার মনেই ক্ষোভ-হতাশা।
মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বুধবারের হরতাল প্রত্যাহার করায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করলেও এখনও রয়েছে অজানা আতঙ্ক।এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ে স্টেশন, সদর হাসপাতালে হামলা এবং পুলিশবাহী পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত তিনিটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মহিদুর রহমান আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ছয়/সাতশ লোককে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুবেল ফরাজী বাদি হয়ে পুলিশবাহী পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাত/আটশ অজ্ঞাতনামা লোককে আসামি করে মামলা দিয়েছেন। জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) রানা নুরুস শামস বাদী হয়ে সাত/আটশ অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে মামলা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোশাররফ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার এম এ মাসুদ। এসময় তাদের সঙ্গে ১২ বর্ডার গার্ড ব্যাটিলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম, র্যাব-১৪ এর অধিনায়কসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম অবহেলা এবং নিষ্ক্রিয়তার জন্যই ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি হয়েছে। মঙ্গলবারের তাণ্ডব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে বলে জানান তারা।
মাদ্রাসা ছাত্ররদের আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন, শিল্পকলা একাডেমি, সাহিত্য একাডেমি, তিতাস ললিতকলা একাডেমি, প্রশিকা অফিস, তিতাস সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাঠাগার, ইন্ডাসট্রিয়াল স্কুল ও সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুস সাত্তার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ে স্টেশনে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় দুপুরে একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। মামলায় রেলওয়ের ক্ষতির পরিমাণ আড়াই কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
শহরে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে।
/এফএ/