গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয় আসামিকে আদালতে হাজির না করায় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) শোকজ করা হয়েছে। আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফী উদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, একইদিন এ সংশ্লিষ্ট শুনানিতে অংশ নেওয়া আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ওই এসআইয়ের নাম অঞ্জন গুপ্ত। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া অপর দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ইমাম হোসেন। ইমাম হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গত ৯ আগস্ট নগর গোয়েন্দা পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে। নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ১১ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করেন। এই ঘটনায় বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে আনলে আদালত চান্দগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার বাদী নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক অঞ্জন গুপ্ত ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমাম হোসেনকে আদালতে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজ শুনানিতে আদালত ওসির বক্তব্য গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনও ভূমিকা না থাকায় এসআই ইমামকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে এসআই অঞ্জন গুপ্তের বিরুদ্ধে আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের আদালতে হাজিরের জন্য থানায় জমা না দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে শোকজ করেন।’
এর আগে, ১১ আগস্ট দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সালাম কবির জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর চান্দগাঁও থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিএনজি অটোরিকশা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি চোরাই সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা তারা জানিয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চুরি করে ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর ও রঙ পরিবর্তনসহ জাল কাগজপত্র তৈরি করে এসব যানবাহন বিক্রি করে আসছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়।
গ্রেফতার ছয়জন হলেন- মো. রায়হান (৩০), মো. হানিফ (৩০), মো. আবু তাহের (৩৫), মো. মনির হোসেন (৪৮), মো. রুবেল মিয়া (২৭) ও মো. নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩৯)।