ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক কলেজছাত্রী বখাটের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের লোকনাথ উদ্যানে (ট্যাংকের পাড়) এ ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অভিযুক্ত এমরানকে (২৫) গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্থানীয়রা জানান, এমরান বখাটে ও মাদকাসক্ত।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজছাত্রীকে পেটানো ওই যুবককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনও মামলা হয়নি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে লোকনাথ উদ্যানের পুকুরপাড়ের পাকা বসার জায়গায় বসে সেলফি তোলার সময় এমরান ওই ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিতে চায়। ফোন দিতে না চাইলে বখাটে এমরান ওই ছাত্রীকে লাথি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়।
খবর পেয়ে শহরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রহুল আমিন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তিনি লোকনাথ উদ্যান সংলগ্ন আনন্দময়ী (নিতাই পাল) উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রীদের চলার পথে সতর্ক থাকাসহ নিজেদের করণীয় সম্পর্কে বোঝান।
ওই কলেজছাত্রীর ভাই ও স্থানীয় যুবকরা বলেন, ‘এমরান মাদকাসক্ত। এর আগেও সে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার একাধিক ঘটনা ঘটায়।’
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপড়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছেন, এই মুহূর্তে ব্যবস্থা না নিলে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে নতুন প্রজন্ম। রবিবারও লোকনাথ উদ্যানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেরা মারামারি করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও খেলাঘরের সভাপতি ডা. আবু সাঈদ বলেন, ‘সারাদেশেই কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বেড়েছে। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এখনই সচেতন হতে হবে।’
ওসি জানান, কিশোরদের অপরাধ রোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে পুলিশ। বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।