জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মা এবং ছেলেকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ও মা বিবি আমেনা বেগম এবং আনোয়ারের ভাতিজি জান্নাত বেগমকে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রবিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে কমলনগর থানায় আহত আনোয়ারের ভাবি জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেন। এর আগে শনিবার বিকালে উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুকবুল মাঝি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরলরেন্স এলাকার মুকবুল মাঝি বাড়িতে সাড়ে তিন একর জমি নিয়ে আনোয়ারের পরিবারের সঙ্গে চাচা আব্দুল আলীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে আনোয়ার ঘরের পাশে শ্রমিক দিয়ে একটি নারিকেল গাছ কাটার চেষ্টা করেন। এতে চাচা আব্দুল আলী, তার দুই মেয়ে মুন্নি আক্তার, জুটি বেগম একত্রিত হয়ে আমেনা ও জান্নাতের ওপর হামলা চালায়। তারা লোহার রড ও দা দিয়ে এলোপাতাড়ি তাদের পিটিয়ে এবং কুপিয়ে জখম করে। পরে আনোয়ারকে ঘর থেকে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মামলার বাদী জেসমিন আক্তার জানান, তার শ্বশুর অনেক আগে মারা যান। জায়গাজমি ভাগাভাগি নিয়ে তার শ্বশুরের সঙ্গে চাচা শ্বশুরের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। ঘটনার দিন একটি নারিকেল গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে চাচা শ্বশুর ও তার মেয়েরা লোহার রড, দা দিয়ে প্রথমে আমার শাশুড়ি, মেয়ে ও আমার দেবরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।
তবে আব্দুল আলী দাবি করেছেন, আমার জায়গা থেকে তারা নারিকেল গাছ কাটার চেষ্টা করলে বাধা দিই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার মেয়ে, স্ত্রী ও আমাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আমরাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।
কমলনগর থানার ওসি মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আনোয়ারের পরিবার মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।