চমেক ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: দুই পক্ষকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে সংঘর্ষের জন্য বিবদমান দুটি পক্ষকে দায়ী করা হয়েছে।

সোমবার (২২ নভেম্বর) চমেকের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এম আর খানসহ পাঁচ সদস্য সিলগালা করা তদন্ত প্রতিবেদনটি কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে জমা দেন।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘কমিটি আজ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটা এখনও খুলে দেখা হয়নি। মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া নেবো।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে সংঘর্ষের দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে এর জন্য দুই পক্ষ দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনা বন্ধে প্রতিবেদনে কোনও সুপারিশ করা হয়নি।

চমেকে সংঘর্ষ, নেপথ্যে আধিপত্য নাকি বাণিজ্য?

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২৯ অক্টোবর রাতে চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। বিবদমান দুটি গ্রুপের এক পক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অন্য পক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের অনুসারীরা নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় নাছির গ্রুপের চমেকের ৬১ ব্যাচের মাহফুজুল হক (২৩) ও ৬২ ব্যাচের নাইমুল ইসলাম (২০) আহত হন।

রাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারী মাহাদি জে আকিবে (২০) একা পেয়ে বেধড়ক পেটায় আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা। এরপর দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার বিকালে চমেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সন্ধ্যার মধ্যে হোস্টেল ছেড়ে যেতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আবাসিক হোস্টেল ছেড়ে যান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।