ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় আহত ১১, যুবকের কপালে তীর বিদ্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ইউপি নির্বাচন চলাকালে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় তীর বিদ্ধ হয়ে ছামিরুল (২২) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। 

রবিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর এবং ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার তেজখালী ইউনিয়নের ইমামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত ছামিরুল তেজখালী ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামের হাসান মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ থামাতে ৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়েছে পুলিশ। তীর বিদ্ধ ছামিরুলকে নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ অলিউর রহমান জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছামিরুলের চাচা আমির হোসেন বলেন, ‘তেজখালী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী তালা প্রতীকের মোহন মিয়ার সমর্থকরা দুপুর ১টার দিকে ইমামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মনির হোসেনের লোকজনের বাধায় তারা কেন্দ্রে ঢুকতে পারেনি। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তারা ফের কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মোহন মিয়ার সমর্থকরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তীর নিক্ষেপ করে। এতে তীর বিদ্ধ হয় ছামিরুল।

এ বিষয়ে জানতে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি রাজু আহমেদকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। বারবার ফোন কেটে দেওয়ায় থানায় গিয়ে তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, ওই কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। পরে আহতদের বিষয়টি জানালে ওসি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো।’

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনা কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হয়েছে।

জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে তিন উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তেজখালী ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে দুই মেম্বার প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তাৎক্ষণিক তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে কেউ আহত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।