কক্সবাজারের রামু থেকে অপহৃত চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে টেকনাফের শালবন এলাকার একটি পাহাড় থেকে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে র্যাব। এর ঘণ্টাখানেক পরেই আরও দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করার কথা জানায় আর্মড পুলিশ। আর আজ শনিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোরে অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের কথা জানায় র্যাব।
ভোর ৫টার দিকে উদ্ধার হওয়া সবশেষ শিক্ষার্থীর নাম মিজানুল ইসলাম। এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানোর কথা জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, টেকনাফের শালবন এলাকায় একটি পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ কায়সার নামে এক নিখোঁজ ছাত্রকে উদ্ধার করে র্যাব। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে একই পাহাড় থেকে দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন কক্সবাজারের ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. তারিকুল ইসলাম। তারা হলেন, জাহিদুল ইসলাম মামুন ও মিজানুর রহমান নয়ন। অপহৃত অপর অপর জনের সন্ধানে রাতভর পাহাড়ে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর অপহরণের হন চার শিক্ষার্থী। উখিয়া উপজেলার সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র জাহেদুল ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ কায়সার ও মিজানুল ইসলাম। তাদের সবার বাড়ি রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন পেঁচারদ্বীপ এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রামুর পেঁচারদ্বীপের বাসিন্দা ও সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাতিঘর নামের একটি আবাসিক কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহীমের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে গত ৭ ডিসেম্বর সকালে রামুর পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিম তাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের কথা বলে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। এক পর্যায়ে ওইদিন সকাল ১০টার দিকে স্কুলছাত্রদের নিয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর থেকে স্কুলছাত্রদের খোঁজ মিল ছিল না।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের মুক্তিপণ বাবদ ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। মুক্তিপণ না দিলে স্কুলছাত্রদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে এপিবিএন।