চাঁদপুরে ১৬ বছর পর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে চাঁদপুরের বীর শহীদদের স্মরণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নির্মিত স্মৃতিসৌধ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে পড়েছিল অযত্নে-অবহেলায়। এমনকি ওখানে স্মৃতিসৌধ রয়েছে তাও জানা ছিল না অনেকের। অবশেষে ১৬ বছর পর সেই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলো।

স্বাধীনতাযুদ্ধে ২১৪ জন শহীদের সম্মানে স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হলেও কখনও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বুদ্ধিজীবী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয় শহরে স্থাপিত অঙ্গীকার এবং শহীদ মিনার পাদদেশে। তবে এবার বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রথমবারের মতো এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, আনসারসহ বিভিন্ন সরকারি দফতর, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা।

জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ সরকারি উদ্যোগে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ২০০৫ সালে নির্মিত হয়। এর স্মৃতিফলকে চাঁদপুরের ২১৪ জন বীর শহীদের নাম খোদাই করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও দিবসে এখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। 

মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা, চাঁদপুর পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন ব্যক্তি সংগঠন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ বলেন, এই স্মৃতিসৌধে শহীদদের নাম খোদাই করা আছে। যারা যুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন। তাদের তালিকা রয়েছে এটিতে। আমরা সাধারণত জাতীয় দিবসগুলোতে অঙ্গীকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকি।

শহীদদের নামে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দীর্ঘ ১৬ বছর এভাবে ফেলে রাখা কতটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখন জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠানগুলো করা হয় তখন অঙ্গীকার ব্যবহার করা হয়। এ বছর আমরা প্রথম ব্যবহার করলাম। এটিকেও আমাদের সম্মান দেওয়া দরকার। ভবিষ্যতে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ কর্মসূচি পালন অব্যাহত থাকবে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরে যারা শহীদ হয়েছেন; এই স্মৃতিফলকে তাদের নাম আছে। তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। এটি অযত্নে পড়ে থাকতে পারে না। এই চিন্তা থেকেই গত সেপ্টেম্বর মাসে আমি স্মৃতিসৌধটি সংস্কার করি; যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা যায়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের যারা শহীদ হয়েছেন, যেহেতু আমরা বুদ্ধিজীবী দিবসে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবো- তাই এই স্থানটিকেই ভালো মনে করেছি। জেলা প্রশাসনের চোখের সামনে এমন একটা স্মৃতিসৌধ অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকতে পারে না। তাই কয়েকদিন আগে বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এখানে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে আগের জায়গায় অর্থাৎ অঙ্গীকার পাদদেশে শ্রদ্ধা জানাবো। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বুদ্ধিজীবী দিবসসহ যে দিবসগুলোতে পুস্পস্তবক অর্পণের বিষয় থাকে; এখানে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম চিশতী বলেন, এই স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এখানে আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নাম আছে।