আমীর খসরুসহ দুজনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উসকানির মামলায় অভিযোগপত্র

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় উসকানির অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ছাত্রদল নেতা মিলহানুর রহমান নাওমির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রামের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই সঞ্জয় গুহ মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

একই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা আরেক মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ডিসি ফারুকুল হক জানান, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে ওই আন্দোলনে ফোনালাপের মাধ্যমে উসকানির অভিযোগে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দুটি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলা হয়, তিনি ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কাছে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে আমীর খসরুর সঙ্গে কুমিল্লায় অবস্থানরত ছাত্রদল নেতা মিলহানুর রহমান নাওমির মোবাইল ফোনে কথোপকথন ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

সেখানে আমীর খসরুর কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, তিনি ওই কর্মীকে লোকজন নিয়ে ঢাকায় নেমে পড়তে বলছেন। এর জেরে ওই আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়। ওই মামলায় আমীর খসরু ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর উচ্চ আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।