আওয়ামী লীগের মধ্যে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু খুনি মোস্তাককে আশ্রয় দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন না— মোস্তাক তাকে হত্যা করবেন। আমরা মোস্তাকদের আওয়ামী লীগে জায়গা দেবো না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো— মোস্তাকদের সম্পর্কে আপনি সতর্ক হোন। আমরা যেমন জানি মোস্তাক কারা, মাননীয় নেত্রী আপনিও জানেন।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে ছাত্র সমাবেশে তিনি এমন কথা বলেন। সোমবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে রাজনীতি শিখেছিলেন। রাজনীতিতে তিনি যা করেছেন দিবালোকের মতো স্পষ্ট রেখে করেছেন। তার মধ্যে কোন দ্বিচারিতা ছিল না। অন্ধকার ঘরে কাজ তিনি করেননি। কিন্তু দুঃখ হয় যখন দেখি অকারণে কিছু লোক কেবল ষড়যন্ত্র মধ্যে থাকে। কোন প্রয়োজন নেই। তারপরও তারা ষড়যন্ত্র ছাড়া থাকতে পারেন না। দুঃখ হয়, কষ্ট হয়— জীবনকে অনেক বড় করে দেখার সুযোগ আছে। কিন্তু সংকীর্ণতা এবং ক্ষুদ্রতা তাদের এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে তারা সংকীর্ণতা এবং ক্ষুদ্রতা ছাড়া থাকতে পারেন না।
তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম অনুসরণ করার জন্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীদের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ঘৃণা হয় তাদের দেখলে, ‘যারা রাতের অন্ধকারে মুখে কাপড় দিয়ে নৌকার বিরোধিতা করেন, আমি তাদের ওপর থু-থু দেই। আপনাদের চরিত্র যদি এমন হয় তাহলে দল থেকে পদত্যাগ করুন। দেখি কে আপনাদের জিজ্ঞেস করেন।
তিনি বলেন, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলের মধ্যে আমরা আপনাদের বিষয়ে সতর্ক থাকবো।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।