কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (বিটিএফ) কুমিল্লা জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা অবরোধ করেন সংগঠনটির সদস্যরা। অবরোধকালে প্রায় ৫ কিলোমিটারের অধিক যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় তারা ইউএনও সাইফুলেরও অপসারণ দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেন, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব ড. সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুরী শাহ দরবার শরীফের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাকসামের দোগইয়া আশরাফিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ও মাঠ রক্ষা করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন- মন্ত্রীর মদতে লাকসামের ইউএনও একেএম সাইফুল আলম এ কাজ করছেন। তারা ইউএনওর অপসারণ দাবি করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে কুমিল্লা শাখার আহবায়ক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ কুতুব উদ্দীন বখশীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিটিএফের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী ফারুকী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ আলী হোসাইন, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ বাহার শিপুল, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ফেরদৌস আহমদ আফিস, যুগ্ম আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. খাজা বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী, যুগ্ম আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ফেরদৌস আহমদ আসিফ প্রমুখ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় তারা হঠাৎ সড়কে নেমে পড়ে। আমরা বহুবার আলোচনার পরেও তারা থামেননি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ এসে তাদের আশ্বস্ত করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অভিযোগের বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল আলম বলেন, আমরা যে ১১ শতক জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছি, সেটি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। এছাড়া এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকও বিস্তারিত জানেন। আমরা সরকারি জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকপ্লের ঘর নির্মাণ করছি। তারা কেন বিক্ষোভ করছেন, বুঝতে পারছি না।