নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পাল্লা বাজারে কোমল পানির সঙ্গে ‘নেশাদ্রব্য’ পান করিয়ে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফুয়াদ আল মতিনের (৩৮) বিরুদ্ধে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করারও অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পাল্লা বাজারে ফুয়াদ আল মতিনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এক সিএনজি অটোরিকশাচালক।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা চাটখিল উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবু তারাব গ্রামের মতিন প্রফেসরের ছেলে।

হাসপাতালে ভুক্তভোগী নারী জানান, পরিবারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলেন। তার দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে থেকে পরিচয়ের জেরে পারিবারিক সমস্যা থাকায় ফুয়াদের কাছে একটি চাকরির কথা বলেন। পরে ওই যুবলীগ নেতা জীবনবৃত্তান্তের কপি চাইলে সেটিও জমা দেন। এরপর আজ সকাল ১০টায় ওই নারীকে পাল্লা বাজারে আসতে বলে ফুয়াদ। তার কথামতো পাল্লা বাজারে ফুয়াদের কার্যালয়ে আসেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, ‘ফুয়াদ একটি ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করেন। ওই ইন্স্যুরেন্সের অ্যাকাউন্ট সেকশনে চাকরি দেবে বলে জানায়। সেখানে গেলে বিভিন্ন কথা বলে কালক্ষেপণ শুরু করে। কিছুক্ষণ পর নাশতা দেওয়া হয়। পরে কোমল পানীয় দেওয়া হয়। এতে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো ছিল। এরপর ফুয়াদ ধস্তাধস্তি শুরু করে। বাধা দিলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার এক সহযোগী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং কাউকে কিছু বললে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও হত্যার হুমকি দেয়। পরে তারা একটি অটোরিকশায় তুলে দিলে চালক তাকে চাটখিল ও পাল্লা বাজারের মাঝামাঝি স্থানে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে এক সিএনজি চালকের সহযোগিতায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে চাটখিল থানা ও হাসপাতালে যাইনি। কারণ, চাটখিলের রাজনৈতিক নেতারা ও প্রশাসন তার কথায় চলে বলেও ফুয়াদ হুমকি দেয়।’

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আমি এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি।’ তবে গত দেড় বছর আগে ওই কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

চাটখিল থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভুক্তভোগীর কাছে পাঠানো হয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।