ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্কুল ড্রেস এবং জুতা না পরে আসায় ৬ষ্ঠ ও দশম শ্রেণির প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে পৌর শহরের নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের বের করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের ক্লাস রুমে প্রবেশ করতে হলে শিক্ষার্থীদের ড্রেস কোড মানতে হয়। এজন্য ড্রেস ও জুতা চেক করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় সবার নির্ধারিত ড্রেস থাকলেও অনেকের জুতা ছিল ভিন্ন। কেউ কেউ স্যান্ডেল পরে এসেছে। এ সময় প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক তার স্ত্রী শিখা রানী বণিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেন।
অপমানবোধ করে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে কান্নাকাটি করলে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে পৌর শহরের নারায়ণপুর গ্রামের মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করলে আমি স্কুলে গিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ জানাই। পরে তাকে ক্লাসে নিয়ে বসাই।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, করোনাকালে প্রধান শিক্ষক মানবিকতা ভুলে গেছেন। অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
রাধানগর সাহাপাড়ার বাসিন্দা দীপা সাহা বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ ছিল স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত জুতা না পরে কেউ ক্লাসে ঢুকতে পারবে না। এজন্য তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন। এটি অন্যায় করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক বলেন, ক্লাসে স্কুল ড্রেস ও নির্ধারিত জুতা পরে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া আছে। এছাড়া বিষয়টি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরও জানানো হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ মানেনি তাদেরকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্টাফরা বাধা দিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আকবরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।