হত্যা মামলার শাস্তি এড়াতে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর নাটক

হত্যা মামলায় শাস্তি থেকে বাঁচতে নিজেদের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েও পার পাননি দুই ভাই। চকরিয়া থানার আওয়ামী লীগ নেতা মো. নুরুল হুদা (৬০) হত্যা মামলার আসামি ইউনুস হোসাইন মানিক ও ইব্রাহিম মোস্তফা আবু কাইয়ুম ওরফে কাইয়ুম নিজেদের মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিল। তারা চকরিয়া থানার বদরখালী ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে। 

রবিবার (৬ মার্চ) ঘোষিত রায়ে এ দু’জনসহ তাদের অপর ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে লম্বা সিদ্দিকেরও ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে সোহায়েত নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।

নিহত মো. নুরুল হুদা (৬০) কক্সবাজার জেলা চকরিয়া উপজেলা বদরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালের ৩০ জুন নুরুল হুদাকে অপহরণের পর গলা কেটে খুন করে জামায়াত সমর্থকরা।  

নিহতের ছেলে মো. শাহজাহান বলেন, আমার পিতাকে খুন করার পর পরই মামলার আসামি হোসাইন মানিক ও তার ভাই ইব্রাহিম মোস্তফা আবু কাইয়ুম ওরফে কাইয়ুম গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে অবৈধভাবে নদীপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে তারা (মানিক ও কাইয়ুম) মারা গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়। এর ক’দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের লাশ কফিনে করে মালয়েশিয়া থেকে আনা হয় বলেও মসজিদের মাইকে জানানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী বদরখালী লম্বাখালী গোরস্তানের মসজিদ মাঠে তাদের জানাজা শেষে দাফনও করা হয়। তবে কফিন খুলে ওই সময় কাউকে লাশ দেখানো হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার ক’মাস পর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে খবর পাই আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে লম্বা সিদ্দিক এবং তার ভাই ইব্রাহিম মোস্তফা আবু কাইয়ুম কাতার যাওয়ার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর জানতে পারি মানিক ও কাইয়ুম মারা যায়নি। তারা মামলা থেকে বাদ পড়তে মারা যাওয়ার ভুয়া সংবাদ প্রচার করেছিল। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকে অবহিত করি।

নিহত নুরুল হুদার ছোট ছেলে সাখাওয়াত হোসেন জানান, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায়ের দিন বদরখালী বাজারের একটি চা দোকানে টিভিতে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবর প্রচার হচ্ছিল। তা দেখে আমার পিতা উচ্ছ্বাস করায় দোকানে উপস্থিত জামায়াত সমর্থিত আসামিরা আমার বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে চা দোকান থেকে বাবাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হুদার বড় ছেলে শাহজাহান বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৩ জুলাই চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
তৎকালীন চকরিয়া থানার এসআই মো. আলমগীর ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর তদন্ত শেষে পাঁচ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 
 
মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রবিবার আদালত এ রায় দেন।