কুমিল্লা নগরীতে ৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

সড়কে চাঁদাবাজি ও ট্রাফিক সার্জেন্টদের হয়রানির প্রতিবাদে কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা বিক্ষোভ ও ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার (১৬ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী নগরীর কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় চালকরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের আশ্বাসে বিক্ষোভ থেকে সরে আসেন চালকরা। এরপরই সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। যান চলাচল বন্ধে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, জাঙ্গালিয়া, টমছম ব্রিজ ও কান্দিরপাড় থেকে যাতায়াত করা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও বন্ধ থাকে।

নগরীর জাঙ্গালিয়া চৌমুহনী এলাকার একাধিক অটোরিকশার চালক নাম না প্রকাশ করা শর্তে জানান, কান্দিরপাড় গেলেই অটোরিকশা আটকে রাখা হয়। পরে টাকা দিয়ে তা ছোটাতে হয়। একদিন গাড়ি বন্ধ থাকলে চালকদের ভাত জুটে না। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে মাঠে নামতে হয়েছে।

যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরাতাদের অভিযোগ, আমাদের সিএনজি ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পুরো সড়কে দিতে হয় চাঁদা। না দিলে সিএনজি আটক রাখে। আমাদের মারধর করে। আমরা কোথাও দাঁড়াতে পারি না। অটোরিকশা নিয়ে বের হলেই প্রতি মাসে ১২শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা দিলে চালকরা একটি টোকেন পান। এই টোকেন থাকলে ট্রাফিক পুলিশ সড়কে কোনও ঝামেলা করে না। এছাড়া যারা ১২শ’ টাকার টোকেন সংগ্রহ করে না, তাদের অটোরিকশা আটকে বিভিন্ন ধারায় মামলা দিয়ে পুলিশ লাইন নিয়ে রাখার অভিযোগ তুলেছেন চালকরা।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ বলেন, যদি বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও ট্রাফিক পুলিশ কাউকে হয়রারি করে সেক্ষেত্রে পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছি। এছাড়াও তাদের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থানএ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাবলু বলেন, অটোরিকশা চালক, মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে সন্ধ্যায় টাউনহলে বসবো। যদি ট্রাফিক পুলিশ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাই আমরা পুলিশ সুপারের কাছে যাবো।

কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক এমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কে কোনও চাঁদা নেওয়ার বিষয় নেই। মূলত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে নগরীর যানজট নিরসনে কান্দিরপাড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি বন্ধ করতে হবে। কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছি। আর এ কারণে চালকরা বিক্ষোভ করছে। যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তাদেরকে ধরেই ট্রাফিক আইনে মামলা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।