হাজীগঞ্জে চিকিৎসা ব্যয় ও ঋণের টাকা পরিশোধে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশু সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির পরিবারে বাবা-মা ও দুই কন্যা সন্তান ছিল। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের পুরুষ সদস্যের পা ভেঙে যায়। এ অবস্থায় তার রড লাগানো হয়। টাকার সংকটে সেই রড এখন খোলা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ হয়েছে।
চিকিৎসা খরচ ও ঋণের টাকা ফেরত দিতে এক বছর বয়সী কন্যা শিশুকে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিশুর মা জানান, চাঁদপুরে কোর্টে এফিডেভিটের মাধ্যমে শিশুকে দিয়ে দিয়েছি। ঋণগ্রস্ত থাকায় শিশুকে বিক্রি করার সিন্ধান্ত নেন বলে জানান তিনি। তবে এখন তিনি শিশু সন্তানকে ফেরত চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুর বাবা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে তার ভাই জানান, ধেররা আবেদীয়া মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কাজী হারুনুর রশিদের মাধ্যমে ঢাকার এক পরিবারের কাছে কন্যা শিশুটিকে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহসীন ফারুক বাদল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনও শিশু সন্তান দত্তক দেওয়া হলে পৌরসভাকে অবহিত ও একটি ফরম পূরণ করতে হয়। কিন্ত পরিবারটি তা করেনি।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, বিষয়টি জানা নেই। তবে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার বলেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়রকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। এছাড়া ওসির সঙ্গেও কথা হয়েছে। বিষয়টি আমরা দেখছি।