র‍্যাংগসের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতেও মামলা, তদন্তে পিবিআই

র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এমডিসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী। কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ নম্বর আমলি আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। পরে বিচারক আব্বাস উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। 

মামলায় র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে. এম একরাম হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- র‌্যাংগস ইলেক্ট্রনিকস লিমিটেডের জিএম (বিক্রয় ও বিপণন) জানে আলম, মার্কেটিং ম্যানেজার মোহাইমিনুল ইসহাক প্রতীক, অ্যাস্টিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মার্কেটিং মো. ওমর ফারুক, কুমিল্লা ঝাউতলা শো-রুমের সনি র‌্যাগস কর্মকর্তা কামরুল হাসান।

মামলার আইনজীবী আঁখি মাহমুদ শুক্রবার (৮ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ২১ মার্চ একজন ভুক্তভোগী এসে র‍্যাংগসের প্রতারণার অভিযোগ করলে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ নম্বর আমলি আদালতে মামলার আবেদন করি। বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। শুনেছি পিবিআই তদন্ত করছে। আশাবাদী খুব শিগগিরই তদন্তের রিপোর্ট জমা হবে। 

মামলার বাদী শিল্পী আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পিবিআই আমার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়েছে। তারা আমার মোবাইলের কল রেকর্ডিংও নিয়েছে। হাতে লোগো ও স্টিকার লাগানোর ভিডিওগুলোও নিয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে সত্যি ঘটনা শিগগিরই তুলে আনবেন। আমি চাই এর একটা শক্ত বিচার হোক যেন আমার মতো কেউ প্রতারিত না হয়।  

তিনি আরও জানান, অনলাইন পেজে মালয়েশিয়ান ক্যালভিনেটর-২৭৯ একটি ফ্রিজ দেখে ১৪ মার্চ কুমিল্লার ঝাউতলা র‌্যাগস ইলেকট্রনিক্সের শো-রুমে যান শিল্পী আক্তার। তিনি সেখানে দেখেন ফ্রিজে ক্যালভিনেটরের কোনও লোগো বা স্টিকার লাগানো নেই। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে দোকানের কর্মচারীরা নিজেরা লোগো লাগিয়ে দেন। তিনি সরল মনে তা বাড়ি নিয়ে যান। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফ্রিজটি মালয়েশিয়ান ক্যালভিনেটর-২৭৯ নয় বলে সন্দেহ করেন। এরপর একাধিক টেকনিশিয়ান ডেকে বিষয়টি যাচাই করা হলে  ফ্রিজটি নকল ও লোকাল পণ্য বলে প্রমাণ হয়। যখন ফ্রিজটি তিনি ফেরত দিতে যান, শো-রুম কর্তৃপক্ষ তা ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপরই তিনি কুমিল্লার আদালতে র‍্যাংগসের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাটি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা ঝাউতলা শো-রুমের সনি র‌্যাগস কর্মকর্তা কামরুল হাসান শুক্রবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি নতুন এসেছি। কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। কোম্পানি আমাদের যেভাবে দেয় আমরা সেভাবেই কাস্টমারকে প্রোডাক্ট দেই। মামলার বিষয়টি কোম্পানি আইনিভাবে লড়বে, আমাদের কিছু বলার নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কুমিল্লার আদালতে র‍্যাংগসের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং বাদীর সঙ্গে কথা বলে সব তথ্য নিয়েছি। তদন্ত শেষে আমরা বিস্তারিত জানাবো।