নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে তাসফিয়া আক্তার জান্নাত (৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মামুন উদ্দিন রিমন (২৫) ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাতে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. সবজেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে রিমনসহ পাঁচ আসামিকে আদালতে আনা হয়। তাদের মধ্যে সোহেল উদ্দিন, সুজন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে দুপুরে প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া প্রধান আসামি রিমন স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হওয়ায় তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিকালে রিমনকে বিচারকের খাস কামরায় ডাকা হয়। সেখানে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে রাত সাড়ে ৮টায় খাস কামরা থেকে বের করা হয় এবং জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।’
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি রিমন (২৫) আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করে, এই মামলার আসামি বাদশা তার কাকা হয়। ভুক্তভোগী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বিবাদী পক্ষের মাটিকাটা নিয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন মহিনদের বাড়ির সামনে ১০/১২ জন বাদীপক্ষের লোকজনকে মারার জন্য জুয়েলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অস্ত্র ভাড়া নেয়। বাদশা ও মহিনের নির্দেশে সে নিজেই শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাত ও তার বাবাকে গুলি করে। পরে সে মারা যায়।’
আরও পড়ুন: বাহিনী গড়ে প্রকাশ্যে অপকর্ম করতো রিমন
উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল (বুধবার) বিকাল ৪টায় সন্তান তাসফিয়াকে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মালেকার বাপের দোকান এলাকার আবদুল্লাহ আল মামুনের দোকানে যান প্রবাসী বাবা মাওলানা আবু জাহের। সেখান থেকে তাসফিয়ার জন্য চকলেট, জুস ও চিপস নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় রিমন, মহিন, আকবর ও নাঈমের নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী দোকানে এসে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে তারা দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইট নিক্ষেপ করলে মাথায় আঘাত পায় তাসফিয়া। পরে তারা বাড়ি যাওয়ার সময় পেছন থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে তাসফিয়া ও মাওলানা আবু জাহের গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় পৌঁছালে মারা যায় তাসফিয়া। মাটি কাটার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এই বিরোধের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ততা ছিল না মাওলানা আবু জাহের বা তার মেয়ে তাসফিয়ার। তবে মাটি কাটা নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসায় সন্ত্রাসীদের টার্গেট হন মাওলানা আবু জাহের।
ঘটনার পরদিন ১৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে তাসফিয়ার তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বাদশা ও রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলায় এ পর্যন্ত ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।