নিজ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সৎসন্তানকে হত্যা

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় আরাফাত হোসেন বাপ্পী (৭) হত্যা মামলায় সৎবাবা মো. সেলিম ওরফে রুবেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) তাকে জেলা জজ আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বিকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রাম থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। সেলিম সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাজোর গ্রামের মো. জলিল হক প্রকাশ ফজলু মিয়ার ছেলে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী গ্রেফতার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি বলেন, গ্রেফতারের পর রুবেল পুলিশকে জানিয়েছে, নবজাতক সন্তানের মাথায় সম্প্রতি আঙুল দিয়ে চাপ দিলে বাপ্পীকে চড় মারে রুবেল। এ নিয়ে বাপ্পীর নানির সঙ্গে রুবেলের ঝগড়া হয়। এতে রুবেলের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পথের কাঁটা সরাতে বাপ্পীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে বাপ্পীর নানার বাড়ি তারাপুর গ্রাম থেকে কৌশলে ধনাজোর এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ জলাশয়ের পানিতে ডুবিয়ে রাখে।

ঘটনার পর থেকে বাপ্পীর নানা জালাল মিয়ার কান্নাকাটি দেখে ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় মরদেহ জলাশয় থেকে বের করে বাড়িতে রেখে আত্মগোপনে চলে যায় রুবেল। এ ঘটনায় বাপ্পীর মামা আল আমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

ওসি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।