গত বছর চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনি সহিংসতায় কলেজছাত্র মো. হাবিবুল ইসলাম (২০) খুনের ঘটনায় রবিবার (১২ জুন) আদালতে আরও এক অস্ত্রধারী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার নাম আজাহার উদ্দিন (২৯)। সে চন্দনাইশ থানার দোহাজারী গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে। রবিবার (১২ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।
জবানবন্দিতে আজাহার উদ্দিন বলেন, চন্দনাইশ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আব্দুর রহিমের (৩৪) পক্ষ হয়ে সে এবং তার দলের অন্য সদস্যরা টাকার বিনিময়ে কাজ করতে গিয়েছিল। সেখানে ভোটকেন্দ্র দখলসহ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে তারা।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভা নির্বাচনে গাছবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে দুপুরে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রহিম (স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা) ও মো. সেলিম (আওয়ামী লীগের সমর্থক) নামের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গোলাগুলি হয়। কেন্দ্রের পাশেই ছিলেন গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র হাবিবুল ইসলাম। এতে গুলিবিদ্ধ হন হাবিবুল। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্র মারা যান।
এ ঘটনায় হাবিবুলের মা ছকিনা খাতুন চন্দনাইশ থানায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই শফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জবানবন্দিতে আজহার বলেছেন- ‘ভোটের আগের দিন রাতে চন্দনাইশ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রহিম উদ্দিনের ঘরে আজহার, সুমন ও শওকতসহ আরও কয়েকজন যায়। অস্ত্রের খরচ ছাড়াও রাতে হাত খরচের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় তাদের। ভোটের দিনও হাত খরচের জন্য ১০ হাজার করে টাকা দেওয়া করে। আসার সময় নাস্তা-পানি খাওয়ার জন্য আরও তিন হাজার টাকা মিলে। চন্দনাইশ পৌরসভার পাশাপাশি সাতকানিয়ায় ভোটকেন্দ্রে টাকার বিনিময়ে গিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে সে।’
ওই তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় আদালতে তিন জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই তিন জনের হাতে অস্ত্রসহ ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় আজহার ছাড়াও শওকত হোসেন (৩২) ও কামরুল আজাদ ওরফে সুমন (৩২) জড়িত ছিল।
পিবিআই পরিদর্শক মো. নেজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার তিন জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম (৩৪) ও তার চাচাতো ভাই মোরশেদুল আলমকে (৪০) শনিবার (১১ জুন) চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।