স্বজনদের সঙ্গে হলো না ঈদ উদযাপন

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি ফিরছিলেন একই গ্রামের দুই যুবক। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের বাড়ি ফেরা হয়নি। ঈদের আনন্দও ভাগ করা হয়নি স্বজনদের সঙ্গে। সড়কে প্রাণ হারিয়ে উল্টো পরিবারের সদস্যদের শোকের সাগরে ভাসিয়েছেন তারা। 

স্বজনরা জানান, নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতুভাঙ্গায় রবিবার (১০ জুলাই) পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই গ্রামের দুই জন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল (২২) এবং মো. আশরাফের ছেলে মো. আমজাদ (২৮)। তাদের উভয়ের বাড়ি পাশাপাশি। 

হাতিয়ার হরনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বলেন, বেগমগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মো. সোহেলের লাশ বেলা ১১টায় বাড়িতে এসে পৌঁছালে, হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

তিনি জানান, সোহেলরা চার ভাই ও একবোন। সোহেল সবার বড়। সে গত বছর বিয়ে করেছে। সে ও পাশের বাড়ির আমজাদ হোসেন ফেনীর একটি হোটেলে কাজ করতো। ঈদ উদযাপনে বাড়িতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা। 

তিনি আরও বলেন, একই দুর্ঘটনায় মো. আশরাফের ছেলে আমজাদ হোসেনকে প্রথমে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান অবস্থার অবনতি হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে উপজেলার নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতুভাঙ্গায় রবিবার ভোর ৪টায় পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালকসহ তিন জন নিহত এবং এক জন আহত হন। 

নিহতরা হলেন জেলার হাতিয়া উপজেলার হরনী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল, একই গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেন ও সিএনজিচালক বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের লেদু মিয়ার ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন হৃদয়। 

চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ওসি মৃদুল কান্তি কুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।