২০১১ সালের ১১ জুলাই মীরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে ফিরছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পিকআপ উল্টে গিয়ে ডোবায় পড়ে। এতে ৪২ স্কুলছাত্রসহ প্রাণ হারান ৪৫। এ ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর ১১ জুলাই দিনটি মীরসরাই ট্র্যাজেডি দিবস হিসেবে পালিত হয়। দিনটিতে স্বজন ও স্থানীয়রা অশুসিক্ত নয়নে ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেন হারানো সন্তানদের। এবার দুর্ঘটনার ১১তম বর্ষপূর্তি।
সোমবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ এ ফুল দিয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজনীতিবিদ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ বছর কর্মসূচি হিসেবে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কোরখানি, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
প্রথমে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ ও পরে ‘আবেগ’-এ মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, মঘাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, উপজেলা যুবলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব রহমান রুহেল, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদ উর রহমান সুমু, ভাইস চেয়ারম্যান এম আলাউদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মিহির কান্তি নাথ, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন, মীরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘মীরসরাই ট্র্যাজেডি পুরো বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল। চালকের অদক্ষতার কারণে এ দুর্ঘটনা হয়েছিল। ১১ জুলাইকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, মীরসরাই ট্র্যাজেডিতে উপজেলার আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৪ জন, আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার, আবুতোরাব ফাজিল মাদ্রাসার দুই ও প্রফেসর কামালউদ্দিন চৌধুরী কলেজের দুই শিক্ষার্থী ছিলো। এছাড়া এক অভিভাবক, দুই জন ফুটবলপ্রেমী যুবকসহ ৪৫ জনের প্রাণ যায় সেদিন। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী নিহত হওয়া আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।