জিএম কাদের কেন রিজভীর মতো কথা বললেন বোধগম্য নয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা এক জিনিস নয়। বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের একটি কিস্তি পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও দেরি করেনি, সময় মতো ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরের দিকে। জি এম কাদের সাহেব (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান) শিক্ষিত মানুষ বলে জানতাম। তিনি কেন বিএনপির রিজভীর মতো কথা বললেন, কিংবা অশিক্ষিত, মূর্খের মতো কথা বললেন- সেটি আমার বোধগম্য নয়।’

শুক্রবার (১৫ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে সুদের ব্যয় হচ্ছে জিডিপির মাত্র দুই শতাংশ। সরকারি ঋণ হচ্ছে জিডিপির ৩৬ শতাংশ। জিডিপির ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ঋণ নেওয়া যায়। সেই জায়গায় আমাদের ঋণ আছে মাত্র ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ ৫৫ শতাংশের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম আছে। আমাদের বৈদেশিক ঋণ জিডিপির মাত্র ১৬ শতাংশ। জিডিপির ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ নিরাপদ। সে জায়গায় আমরা বৈদেশিক ঋণ নিয়েছি জিডিপির মাত্র ১৬ শতাংশ। এই অর্থনৈতিক ইনডেক্সগুলো যেসব রাজনীতিবিদ পড়েন না, তাদের কী বলবো।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কদিন আগে কানাডাভিত্তিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান রিজিওনাল ক্যাপিটালিস্ট ব্লুমবার্গ ডাটা নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ইনডেক্স প্রকাশ করছে। সে তালিকায় ২৫ দেশের নাম দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় অনেক বড় বড় দেশ আছে, কিন্তু বাংলাদেশের নাম নাই। এই সংবাদগুলো কী এই রাজনীতিবিদরা পড়েন না? না পড়েই তারা যে সমস্ত বক্তব্য রাখছেন, এগুলো তো গুজব রটানোর শামিল। আমি আশা করবো, শিক্ষিত মানুষগুলো যেন অশিক্ষিতের মতো কথা না বলেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেই কারণেই ব্লুমবার্গের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যে ডাটা সংগ্রহ করেছে সেখানে অনেক বড় বড় দেশ পাকিস্তান, সাউথ আফ্রিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, তুরস্ক, মেক্সিকো, মরক্কোসহ বহু দেশের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম নেই। আমাদের রাজনীতিবিদ যারা এই নিয়ে কথা বলছেন, তাদের বলবো একটু পড়াশোনা করার জন্য।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা তো আদালতের রায় মানে না। বিএনপির আইজীবীরাই তো আদালতে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধান বিচারালয়ে তারা লাথি মেরেছিল। তারা তো আইন-আদালত কোনোটা মানে না, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আইনের শাসন আছে বিধায় আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্যকে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জেলে যেতে হয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার হয়। বিএনপি আইন আদালত মানে না, সেজন্য তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, আদালতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আদালত থেকে শাস্তি পাওয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার প্রশাসনিক ক্ষমতা বলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। সেজন্য মির্জা ফখরুলের উচিত বিবৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো।’

নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপি যাবে না- এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত বিএনপি তো নির্বাচনকেই ভয় পায়। নির্বাচনকে যেহেতু ভয় পায়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন সংলাপে যাবে না বলে খবর বেরিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। আশা করবো, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা ইসির সংলাপে যাবে। সেখানে গিয়ে তাদের ওজর-আপত্তি থাকলে সেটা জানিয়ে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির রিজভী সাহেবের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তিনি (রুহুল কবির রিজভী) সবসময় উদভ্রান্তের মতো কথা বলেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় উদভ্রান্তের মতো কথা বলেছেন, নির্মাণ শেষের পর ওনাদের উদভ্রান্তির মাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বেড়েছে। করোনার টিকা দেওয়ার সময় নানা গুজব রটানোর সঙ্গে তারা যুক্ত ছিল।’