‘ঘাতক পিকআপ সব স্বপ্নকে চাপা দিয়েছে’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট পৌরবাজার এলাকায় একটি উল্টো পথের বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় শুক্রবার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন শুভ নিহত হন। একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপটি চলে যাওয়ার সময় শুভ গতিরোধের চেষ্টা করলে তাকে চাপা দেয় পিকআপটি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সে। ছোটকাল থেকে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো শুভ।  

শুভ উপজেলার ২ নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পশ্চিম হিঙ্গুলী গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের বড় ছেলে।

শনিবার (২৩ জুলাই) বিকালে পিকআপ চাপায় নিহত সাব্বির হোসেন শুভর বাড়িতে গেলে ছেলের কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে কিছুক্ষণ পরপর সাব্বিরের মা ইয়াছমিন আক্তারের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার সকালে বারইয়ারহাট পৌরবাজার থেকে বাড়ির জন্য কাঁচাবাজার কিনে সাব্বিরের কাছে পাঠাই। পথে বারইয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতালের সামনে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী অংশে উল্টো দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় একটি পিকআপ। এ সময় রিকশাচালকসহ দুই যাত্রী আহত হন। সাব্বির পিকআপটির গতিরোধের চেষ্টা করলে পিকআপটি তাকেও চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলে আমার ছেলের মৃত্যু হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সাব্বির ছিল অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির ছেলে। বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাড়িতে এসে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার পাশাপাশি কবুতর পালন ও হাঁস-মুরগি পালনের শখ ছিল তার। পড়ালেখায়ও ভালো ছিল। বিদ্যালয়ে তার রোল ছিল ৭। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। ঘাতক পিকআপ সব স্বপ্নকে চাপা দিয়ে দিয়েছে। চালকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।

শনিবার বিকালে সাব্বিরের বাড়িতে গেলে ঘরের ভেতরের কক্ষ থেকে কিছুক্ষণ পরপর গুমরে কাঁদার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

শনিবার বিকালে সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা হয় তার সহপাঠী তানভীর হোসেনের সঙ্গে। সে জানায়, সাব্বির পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন বিকালে মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতো। সে ভালো খেলোয়াড় ছিল। তার মৃত্যুতে দু’দিন কোনও খেলাধুলা হচ্ছে না।

ধুমঘাট হাজী চাঁন মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুচ্ছফা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনকে আমরা হারিয়েছি। তার জন্য শনিবার বিদ্যালয়ে শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে ঘাতক পিকআপসহ চালক মো. সোহেলকে (২৬) আটক করেছে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ। শনিবার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. কাওছার বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামি সোহেল কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার নাপিতখালী এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।