মীরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের ১১ জন নিহতের ঘটনায় মাইক্রোচালক ও গেটম্যান সাদ্দাম হোসেনকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। তবে দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোচালক গোলাম মোস্তাফার নিরুর দায় বেশি বলছে রেলওয়ের গঠিত আরেকটি তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ জানতে জিএম দফতর থেকে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মঙ্গলবার জমা হয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যান ও মাইক্রোবাসের চালককে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে কমিটি ১১টি সুপারিশ করেছে।’
প্রতিবেদনের তথ্যের বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে লেভেল ক্রসিংয়ের উভয়পাশে ব্যারিয়ার ফেলে রেখে গিয়েছিলেন তিনি। তবে কেউ একজন এক পাশের ব্যারিয়ার তুলে ফেলে। এরপর মাইক্রোবাস গেলে অপর প্রান্তে থাকা ব্যারিয়ারে আটকা পড়ে। মাইক্রোর চালক হয়তো মনে করেছিল ট্রেন আসার আগেই চলে যেতে পারবে। কিন্তু পারেনি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এতগুলো মানুষ মারা গেছে। তাই দুর্ঘটনার জন্য গেটম্যানের চেয়ে মাইক্রোর চালকের দায় বেশি বলছে তদন্ত কমিটি।’
নিহত মাইক্রোবাস চালক ও গেইটম্যানকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদনরেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দফতর থেকে গঠিত চার সদস্যের ওই কমিটির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রেলপথ) আরমান হোসেন। অন্য সদস্যরা হলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জাকির হোসেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোস্তফা জাকির হোসেন ও অতিরিক্ত প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী তারেক মো. শামস তুষার।
এর আগে, গত ১৬ আগস্ট রেলওয়ের বিভাগীয় পর্যায়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী। এ কমিটির প্রতিবেদনেও দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাস চালক ও গেটম্যানকে দায়ী করা হয়। দুর্ঘটনা রোধে ছয়টি সুপারিশ করে কমিটি।
সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ব্যারিয়ার ফেলার পর সাধারণ মানুষ যাতে তা না ওঠায় সে জন্য গেট লকিং রাখতে হবে, সব এলসি গেটে ট্রেন আসা-যাওয়ার তথ্য প্রদানের জন্য টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা করা যেতে পারে, সব এলসি গেটে উন্নত প্রযুক্তির প্রবর্তন, এলসি গেটে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন, গেটে বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা এবং রেলওয়ের জিঅ্যান্ডএস রুলের (আবশ্যিক নির্দেশনা) ২৩৩/খ এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুর দেড়টায় মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেন একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মাইক্রোবাসটিতে চালক-হেলপারসহ ১৮ জন ছিল। তারা হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার একটি কোচিং সেন্টার থেকে মীরসরাইয়ে পিকনিকে গিয়েছিল। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মাইক্রোর চালকসহ ১১ জন মারা যান। এ ঘটনার কারণ জানতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের দায়ের করা মামলায় বর্তমানে গেটম্যান কারাগারে আছেন।