ডাকাতির পর ৩ ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা, ১৫ বছর পর মূলহোতা গ্রেফতার

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং বাজারে এক হাজার ৪০০ টাকা ডাকাতির পর তিন ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যার মূলহোতাকে ১৫ বছর পর গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ ঘটনায় মূলহোতা শরীফ রাসেলসহ পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। এত বছর পলাতক ছিল শরীফ।

রবিবার (২৮ আগস্ট) রাতে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন। গ্রেফতারকৃত মো. নেওয়াজ শরীফ রাসেল ওরফে সবুজ (৩৭) উপজেলার শ্রীয়াং দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত মো. সেলিম রেজার ছেলে।   

র‍্যাব জানায়, কয়েক বছর আগে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়তো সাধারণ মানুষ। এতে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি হতো। ২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি রাতে শরীফ রাসেলসহ আরও কয়েকজন শ্রীয়াং এলাকার বদির পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল। এ সময় লাকসাম উপজেলার শ্রীয়াং বাজারে দোকান বন্ধ করে কাঁচামাল ব্যবসায়ী মনোহরগঞ্জ উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের মনিন্দ দেবনাথের ছেলে উত্তম দেবনাথ, পরীক্ষিত দেবনাথ এবং পান ব্যবসায়ী লাকসাম উপজেলার জগৎপুর গ্রামের সামছুল হকের ছেলে বাচ্চু মিয়া বাড়ি ফিরছিলেন। 

তারা বদির পুকুরপাড় এলাকায় পৌঁছালে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে শরীফ ও তার সহযোগীরা তিন ব্যবসায়ীকে ঘিরে ফেলে। তাদের কাছে যা কিছু আছে সব দিয়ে দেওয়ার জন্য অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করে শরীফ ও তার সহযোগীরা। 

একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা টাকা-পয়সা দিতে বাধ্য হন। হঠাৎ উত্তম দেবনাথ শরীফ ও তার সহযোগীদের চিনতে পেরেছেন এবং স্থানীয় মেম্বার- চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানাবেন বলে চিৎকার দেন। পরে ব্যবসায়ীদের পাশের মাঠে নিয়ে চাপাতি ও ছোরা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে আসামিরা। এ ঘটনায় বাচ্চু মিয়ার ভাই কবির হোসেন ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি বাদী হয়ে লাকসাম থানায় হত্যা ও ডাকাতির মামলা করেন। 

ঘটনার ১১ বছর পর ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নুর নাহার বেগম শিউলী হত্যা ও ডাকাতির ঘটনায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাদের মধ্যে শরীফকে মামলার প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—লাকসামের শ্রীয়াং এলাকার সেলিমের ছেলে মো. শরীফ রাসেল, আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুর রহমান, ইয়াকুব আলীর ছেলে শহীদুল্লাহ, আব্দুল মান্নানের ছেলে ফারুক হোসেন ও মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে স্বপন। দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ জনের মধ্যে আব্দুর রহমান, শহীদুল্লাহ ও ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত স্বপন পলাতক।

র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর পর শরীফ রাসেলকে গ্রেফতার করে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পলাতক স্বপনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’