চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের খেঁজুরতলা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটির পরিচয় এখনও মেলেনি। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একটি রক্তমাখা শার্টই অপরাধীদের ছিনিয়ে দিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে।
জানা গেছে, আলমগীর নামে একজনের পরনে থাকা রক্তাক্ত শার্ট দেখেই তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় বাকি পাঁচ জনকে।
হত্যার দায় স্বীকার করে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন আলমগীর। রবিবার দুপুরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন খেঁজুরতলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- আলমগীর (২৩), তানভীর হোসেন মীম (১৮), জাহিদ হোসেন ইমন (১৮), মো.আলী আকবর ওরফে গুরু (২০), মো. নাসিম (২০) ও মনির উদ্দিন হৃদয় (২০)। রবিবার দিনে ও রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নগর পুলিশের এডিসি (বন্দর) আবুল কালাম শাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার দুপুরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের খেঁজুরতলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার কোনও ক্লু ছিল না। এমনকি নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও জানা যায়নি। ক্লু-লেস ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। রাতে এক ব্যক্তি আমাদের জানায়, আলমগীর নামে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত শার্ট পরে হাঁটতে দেখেছেন। স্থানীয় লোকের এমন তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীরকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। সেসহ মোট ছয় জন মিলে হত্যার কথা জানায় আমাদের। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতেও আলমগীর হত্যার দায় স্বীকার করে সোমবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’
পতেঙ্গা থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ বছর হবে। তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় রবিবার রাতে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রক্তমাখা শার্ট পরা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে তারা দেখেছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আলমগীরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়।’
ওসি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার ছয় জনের মধ্যে মূলহোতা আলমগীর হত্যার দায় স্বীকার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনও নিহত ব্যক্তির পরিচয় মেলেনি। তার পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা করছি।’
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ খেঁজুরতলা এলাকায় শনিবার রাতে অজ্ঞাত এই ব্যক্তিকে একা পেয়ে আলমগীরসহ ছয় জন মিলে পথ আটকায়। তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এতে আলমগীরসহ অন্যরা মিলে ওই ব্যক্তির বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। পরদিন খেঁজুরতলা এলাকায় একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।