ভোক্তার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরিমানার টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ 

কক্সবাজারে একটি পেট্রোল পাম্পে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ এনে জরিমানার টাকা নিয়ে নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার প্রতিনিধি মো. রিদোয়ান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল গত ৬ সেপ্টেম্বর রামি নাহার ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালায়। এ সময় তার সঙ্গে কিছু আনসার সদস্য আর রিদোয়ান নামের এক ব্যক্তিও ছিলেন। পরে সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন একটি জ্বালানি তেলের পরিমাপ যন্ত্র নিয়ে পরিমাপ করেন এবং সামান্য ক্রটি রয়েছে বলে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেন। পরে ফিলিং স্টেশনের লোকদের অফিসে যোগাযোগের জন্য বলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তারা জরিমানার এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে অধিদফতরের কর্মকর্তা ইমরান ও তার প্রতিনিধি এক লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। 

বিষয়টি জানাজানি হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এক বৈঠকে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা ইমরান ভুক্তভোগীর হাতে এক লাখ টাকা ফেরত দেন। এ ঘটনা ভবিষ্যতে আর হবে না বলেও জানান তিনি। পরে এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা ইমরানের নিজস্ব দালাল হিসেবে পরিচিত মো. রিদোয়ানকে পুলিশে সোপর্দ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান।

মো. আবু সুফিয়ান গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের বিরুদ্ধে জরিমানার নামে দালালের মাধ্যমে টাকা আদায় করে আত্মাসাতের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে জরিমানার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী রামুস্থ নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি জরিমানা টাকা আত্মসাতের বিষয়ে প্রমাণাদি হিসেবে ফোনের কল রেকর্ড এবং ভিডিওচিত্র দেখান।

রামু নাহার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের নেতৃত্বে ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নানা অজুহাতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফিলিং স্টেশনটি বন্ধও করে দেন তিনি। পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বললে তাদের কথামতো সন্ধ্যায় জেলা কার্যালয়ে যাওয়া হয়। তখন মো. ইমরান হোসাইনকে অফিসে না পেয়ে ফোনে কল করলে তিনি রিদোয়ানকে এক লাখ এবং অফিসে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে বলেন। তারপর রিদোয়ানকে ডেকে তার হাতে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি ২০ হাজার টাকা অফিসের ভেতরে গিয়ে এক কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে রশিদ নেওয়া হয়। এ সময় ২০ হাজার রশিদ দেওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরদিন কর্মকর্তা ইমরানকে ফোন দিয়ে রিদোয়ানকে এক লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন রেকর্ড করি।

এ ঘটনার পর পর বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের ফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে অভিযুক্ত রিদোয়ান জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে ক্যাব প্রতিনিধি হিসেবে অভিযানে যাই। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগকারী ও কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।