চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গ্রীষ্মকালীন ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা শেষে বিজয়ী দলের ওপর পরাজিত দলের হামলায় ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মীরসরাই পৌর সদর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে উপজেলার করেরহাট কামিনি মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র নোমান, শ্রাবণ ও বর্ধনদের অবস্থা গুরুতর। তাদের তিন জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত বাকি তিন জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪৯তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতি আয়োজিত গ্রীষ্মকালীন ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল শনিবার। আজ দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে কোনও গণ্ডগোল ছাড়াই শেষ হয়। দ্বিতীয় ম্যাচও কোনরকম ঝামেলা ছড়াই শেষ হয়েছে। এতে ২-০ গোলে জয়লাভ করে উপজেলার করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল টিম। খেলা শেষে মিছিলসহকারে ফেরার পথে পরাজিত দলের সমর্থকেরা বিজয়ী দলের ওপর হামলা চালায়। এতে করেরহাট কামিনি মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন জন ফুটবল টিমের সদস্য। তাদেরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
করেরহাট কামিনি মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া) পলাশ মল্লিকের অভিযোগ করে বলেন, ‘পরাজিত দল মীরসরাই সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমর্থকেরা তাদের ফুটবল টিম ও সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এর মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
অভিযোগ অস্বীকার করে মীরসরাই সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া) দিদারুল আলম বলেন, ‘মাঠে কোনও ঝামেলা হয়নি। বেশ সুন্দরভাবেই খেলা সম্পন্ন হয়েছে। শুনেছি, পথের মধ্যে কে বা কারা মারামারি করেছে।’
এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘খেলা চলাকালে মাঠে কোনও গণ্ডগোল হয়নি। জয়ী দল ফেরার পথে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাতীয় স্কুল-মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতি গ্রীষ্মকালীন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির মীরসরাই উপজেলা সভাপতি ও মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, এই ধরনের একটি বিষয় আমি জেনেছি। তবে যারা ঘটনা সংঘটিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’