অবশেষে হিমালয় জয় করে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া তিন কৃতী ফুটবলার আনাই, আনুচিং, মণিকা ও কোচ তৃষ্ণা চাকমা নিজ জেলা খাগড়াছড়িতে ফিরেছেন। এ সময় হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারা।
বাংলাদেশ দলের গর্বিত ফুটবলার ও খাগড়াছড়ির অহংকার এই চার ফুটবল তারকা শুক্রবার (১ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি এসে পৌঁছলে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের ঠাকুরছড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা ও ক্রীড়া সংস্থা পরিবারের সদস্যরা।
এরপর তাদের সুসজ্জিত একটি ছাদখোলা গাড়িতে করে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় পুরো শহর প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় ব্যান্ড দলের বাদ্যের তালে তালে জাতীয় পতাকা হাতে চার ফুটবল তারকা পথচারীদের ভালোবাসা গ্রহণ করেন।
এদিন ঐতিহাসিক খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস তাদের চার লাখ টাকা পুরস্কারের চেক হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া দেওয়া হয় সম্মানমা স্মারক।
হাজারো মানুষের এমন ভালোবাসায় তিন কৃতী ফুটবলার ও কোচ আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ লাল-সবুজের দল চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর দেশে ফেরার পর তাদের জাতীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংবর্ধনা ও পুরস্কারসহ নগদ অর্থ পান তারা।
পাশাপাশি তাদের সাফল্যে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ওই রাতেই চার লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির তারকা ফুটবলারদের নানা সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আনাই, আনুচিং ও মণিকা চাকমার বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন করে তাদের মা-বাবা স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যা জেনেছেন। সরকারি অর্থায়নে জেলা প্রশাসকের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মণিকা চাকমার বাড়ি নির্মাণ ও বিদ্যুতায়ন এবং আনাই-আনুচিংদের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন ও বিদ্যুতায়ন করেছেন।