চট্টগ্রামে ধর্ষণের পর সাত বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় এক রিকশাচালককে খুঁজছে পুলিশ। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ওই রিকশাচালকের ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নগরীর বন্দর থানার পোর্ট কলোনির ৮ নম্বর সড়কের পরিত্যক্ত একতলা বাড়ি থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বন্দর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করছেন বন্দর থানার এসআই মাসুদুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত ওই রিকশাচালককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তাকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভাসমান রিকশাচালক। একেক সময়ে একেক স্থানে রিকশা চালায়। এজন্য গ্রেফতারে সময় লাগছে। আশা করছি, দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।’
এদিকে, ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত রিকশাচালককে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিশুটির বাবা। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের পর নির্মমভাবে আমার মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে।’
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে খালার বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় শিশুটি। বড়পোল এলাকায় গেলে ওই রিকশাচালক বিরিয়ানি কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। শিশুটির সঙ্গে প্রতিবেশী এক শিশু ছিল। সে সঙ্গে যেতে চাইলেও নেয়নি রিকশাচালক। শুধু ওই শিশুটিকে রিকশায় তুলে নিয়ে যায়। প্রতিবেশী শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি ওই শিশুর মাকে জানায়। পরে তাকে খুঁজতে বের হন স্বজনরা। না পেয়ে রাতে মাইকিং করা হয়। পরদিন বেলা ১১টার দিকে পোর্ট কলোনির পরিত্যক্ত বাসায় শিশুটির লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর শিশুটির স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্ত রিকশাচালককে চিহ্নিত করতে পেরেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হবে।’