ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম

ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ আরও ঘনীভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ভোরে এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সোমবার দুপুরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক বৈঠক ডেকেছে। নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকারি হাসপাতালগুলো। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯০টি মেডিক্যাল টিম।
 
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কালাম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘূণিঝড় মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের করনীয় ঠিক করতে এবং নগরবাসীর জান-মাল রক্ষায় বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তা জানা যাবে।’  

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ঘূণিঝড় মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত কোনও প্রস্তুতি নেই। তবে আজ বেলা সাড়ে ১২টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।’

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত, কার্যক্রম বন্ধ

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকারি হাসপাতালগুলো। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৯০টি মেডিক্যাল টিম। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব সরকারি হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিলসহ চিকিৎসকদের নিজ নিজ হাসপাতালে অবস্থানসহ সাত দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ।

এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের আওতাধীন ২৫০ শয্যা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতাল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী ও চাঁদপুর জেলায়। একইভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর সিভিল সার্জনকেও এই জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয় বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্র জানায়।

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—জেলা ও উপজেলার সকল মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাবার স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রাখতে হবে। সাপে কাটা রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এন্টিভেনম মজুত রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট মজুদ রাখতে হবে। সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর নৈমিত্তিক ছুটি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে। যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স সচল আছে সেসব ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানিসহ প্রস্তুত রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবাধায়ক সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জরুরি নির্দেশনা জেলার সব হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাকিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ২৯০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার ২০০টি ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে ১৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিটিতে ৫টি করে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ৯টি আরবান ডিসপেনসারীতে ১টি করে ৯টি মেডিক্যাল টিম, স্কুল হেলথ্ ক্লিনিকে একটি এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৫টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোন বিপর্যয়ে এসব মেডিক্যাল টিম সেবা প্রদান করবে।’

এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে জারি করা হয়েছে তিন নম্বর নৌ-বিপদ সংকেত। আপাতত বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস, ওই অনুযায়ী আপাতত বন্দরের সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমরা সাধ্যমতো সব ধরনের প্রস্ততি নিয়ে রেখেছি। চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ সতর্ককতা এলার্ট-৩ জারি করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে পণ্য ওঠানামাসহ সব ধরনের কার্যক্রম।’