পোশাক খাতের পণ্য ব্যবস্থাপনার অনুমতি পেলো বিএম ডিপো

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বিএম কনটেইনার ডিপো। পোশাক খাতের রফতানি পণ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য ডিপোটি অনুমতি পেয়েছে। সাময়িকভাবে তিন মাসের জন্য এই অনুমতি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত চিঠি মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) পৌঁছে ডিপো কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে ডিপো পরিচালনায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে ৯ শর্ত। ফের দুর্ঘটনা রোধে এসব শর্ত মেনে চলতে হবে তাদের। তবে বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনার অনুমতি দেয়নি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সচিব মো. রুহুল আমিন সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএম কনটেইনার ডিপোকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। কাস্টমস কমিশনার গত ২৪ অক্টোবর ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ডিপো কর্তৃপক্ষকেও এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, এর আগে গত ২২ আগস্ট থেকে কনটেইনার সংরক্ষণ ও ওঠানামার জন্য জন্য অনুমতি পেয়েছিল বিএম কনটেইনার ডিপো।

গত ৪ জুন রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ৫১ জন মারা যান এবং আহত হয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। বিভিন্ন সংস্থার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে বিস্ফোরক থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ডিপো কর্তৃপক্ষের অবহেলার পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণে ছিল না দক্ষ জনবল।

এ প্রসঙ্গে ডিপোর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ক্যাপ্টেন (অব.) মাইনুল আহসান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পোশাক খাতের পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছি। বুধবার থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। দুর্ঘটনার পর বিএম ডিপোকে নতুন করে সাজিয়েছি। যেসব সমস্যা ছিল সেগুলো আমরা পূরণ করেছি।’

দেওয়া হলো ৯ শর্ত

কার্যক্রম শুরুর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র নিতে হবে। বেসরকারি আইসিডি/সিএফএস বা অফডক স্থাপন ও পরিচালন সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২১ এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স বিধিমালা, ২০০৮ এ প্রযোজ্য শর্তাবলী তিন মাসের মধ্যে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ফায়ার লাইসেন্স প্রদত্ত শর্তাবলীর পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

একইসঙ্গে শর্ত নং (৪) অর্থাৎ সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধির ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর থেকে অনুমোদিত ফায়ার সেফটি প্ল্যান সংগ্রহ ও তদানুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ সময়ে সময়ে জারি করা বিভিন্ন শর্তাদি পরিপালন করতে হবে, কেমিক্যাল পদার্থবাহী কনটেইনার আইএমডিজি নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থিত হবে। উক্ত পণ্যসমূহ সংরক্ষণের জন্য আইএমডিজি নীতিমালার আলোকে পৃথক ইয়ার্ড ও শেডের ব্যবস্থা করতে হবে। উপযুক্ত বিষয়সমূহ যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদিত ও ব্যবস্থিত হতে হবে। অনুমোদিত বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স ও বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জারি করা বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ইকুইপমেন্ট উক্ত সময়ের মধ্যে স্থাপন করতে হবে।

উক্ত সময়ের মধ্যে সমগ্র আইসিডি, সিএফএস সিসিটিডির আওতায় আনতে হবে এবং আইসিডির বাইরে একাধিক স্থানে ব্যাকআপ স্টোরেজ স্থাপন করে লিখিতভাবে জানাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শেড ও অফিস ভবনের পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যে নীতিমালায় বর্ণিত যথাযথ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং অফডক পরিচালনার লক্ষ্যে ব্যবহৃত নিজস্ব কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক অ্যাকসেস ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং সফটওয়্যারের ব্যাকআপ ক্লাউড সংরক্ষণসহ ডিজাস্টার রিকভারি সিস্টেমের ব্যবস্থা রাখতে হবে।