চট্টগ্রামে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দলটির ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিএনপির অঙ্গসংগঠনটির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চার পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। বুধবার (২৬ অক্টোবর) নগরের কোতোয়ালি থানাধীন নাসিমন ভবনের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শহরের কাজির দেউড়ি নেভাল রোডে সড়কে একটি মিছিল বের করে দলটি। এতে পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল এবং ককটেল নিক্ষেপ করার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। এ কারণে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় কাজির দেউড়ি এলাকা। এ সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘গত ২০ অক্টোবর কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।’
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবীর বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘শহরের কাজির দেউড়ি নেভাল রোডে স্বেচ্ছাসেবক দলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল বের করে। মিছিলের কারণে সড়কে যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কর্তব্যরত পুলিশ বাধা দিলে পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে। এ সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ ফায়ার করে এবং দুটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।’
ওসি আরও দাবি করেন, ‘মিছিলকারীদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মঞ্জুর আলম তালুকদারসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
গ্রেফতার বাকি ৯ জন হলেন- মো. নঈম উদ্দীন চৌধুরী (৪৮), ইকবাল হায়দার চৌধুরী (৪০), আব্দুল আলীম (৩৬), মো. আজিজ (৩৪), মো. বেলাল উদ্দিন বাদশা (২২), মুরাদুল আলম (৪০), আরমান (২৪), মো. ওমর ফারুক (২২) ও মো. তোফায়েল আহমেদ (২২)।