আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষীকে ‘হত্যার হুমকি’ দিলেন আসামি

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য চলাকালে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আসামি। এ সময় আদালতের বিচারক হুমকিদাতা আসামিকে সতর্ক করেছেন।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের সময় সাক্ষী নুরে আলমকে হত্যার হুমকি দেন খায়রুল আলম নামে এক আসামি। তা বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আমলে নিয়ে তাকে সতর্ক করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ফরিদুল আলম জানান, আদালতে দুই জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। সাক্ষী নুরে আলম যখন সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন এক আসামি তাকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন। আইনি জটিলতার কারণে আসামির নাম প্রকাশ করতে পারছি না। তবে বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামি ও তার আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান জানান, উক্ত মামলার সাক্ষ্য চলাকালে সময়ে নূরে আলম নামে এক সাক্ষী বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসামির বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ করেন। এ সময় বিচারক আসামি খায়রুল আলমের নিকট জানতে চাইলে আসামি হত্যার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এদিকে, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় গত দুই দিনে তিন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলেন। সোমবার এই মামলার বাদী ও এক নম্বর সাক্ষী নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৪ আসামিকে আদালতে আনা হয়। তাদের উপস্থিতিতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

সোমবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মামলার বাদী হাবিবুল্লাহ আদালতে জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য জোরালোভাবে ভূমিকা পালন করায় সন্ত্রাসীদের এক গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে ভাইকে হত্যা করেছে। রোহিঙ্গারা যাতে দ্রুত তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে এ জন্য তিনি ক্যাম্পে ক্যাম্পে আন্দোলন শুরু করেন। রোহিঙ্গাদের দ্রুত স্বদেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও নানা দাবি তুলেছিলেন তিনি।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ১-ইস্ট নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে নিজ সংগঠনের কার্যালয়ে মুখোশধারী বন্দুকদারীদের গুলিতে নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর দিন হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সাড়ে আট মাস তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উখিয়া থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দীন ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে সাত জনের নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্যও উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে ৩৮ জনের নাম ও ঠিকানা রয়েছে। আদালত শুনানি শেষে ১১ সেপ্টেম্বর ২৯ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। ওইদিন আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য ছিল।

বর্তমানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ২৫ সদস্য কানাডায় বসবাস করছেন। প্রথম দফায় ৩১ মার্চ স্ত্রীসহ ১১ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৪ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কানাডা পাড়ি জমান জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সহায়তায়।