ছেলের মৃত্যুর সাত ঘণ্টার মাথায় মায়েরও মৃত্যু

মীরসরাইয়ে নুরুন্নবী (৩৮) নামে এক যুবক মারা যাওয়ার সাত ঘণ্টার মাথায় মারা গেছেন তার মা ছকিনা বেগম (৫৫)। মঙ্গলবার (০১ নভেম্বর) উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের আব্দুল গণি মুন্সি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভোর ৫টার দিকে নুরুন্নবীর ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছকিনার মৃত্যু হয়েছে। 

স্বজনরা বলেছেন, ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বিলাপ করতে করতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। তারা ওই বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী-সন্তান।

এদিকে, মা-ছেলের মৃত্যুর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নুরুন্নবীর খালা রেহানা আক্তার ও ১৩ বছরের মেয়ে রোকসানা। বাড়িতে রোকসানাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রেহানাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নুরুন্নবীর মামাতো নূর ছাপা বলেন, ‘নুরুন্নবী বছর দুয়েক আগে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। পাঁচ দিন আগে হাদিফকিরহাট বাজারে স’মিলে বাড়ির কিছু গাছ কাটার জন্য গেলে পায়ে ব্যথা পান। মঙ্গলবার ভোর ৫টায় তার বুকব্যথা ওঠে। কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন থেকে ছেলের লাশের পাশে বসে কাঁদছিলেন মা ছকিনা বেগম। এরই মধ্যে কয়েকবার মূর্ছা যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনিও মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘নুরুন্নবীরা তিন ভাই। মেজো ভাই মো. আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামে মাছের ব্যবসার করেন। ছোট ভাই নুর উদ্দিন ওমানপ্রবাসী। মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে নুরুন্নবীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ছকিনা বেগমের ছোট ছেলে ওমান থেকে আসার পর বুধবার জানাজা শেষে দাফন করা হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে ছকিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অসুস্থ রেহানা আক্তারকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে স্বজনের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত থাকায় এমনটি হয়েছে। তাকে চিকিৎসা শেষে বিকালে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।’

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ বলেন, ‘ছেলের মৃত্যু শোকে মায়েরও মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। শুনেছি তাদের শোকে আরও দুই স্বজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ওই বাড়িতে গিয়ে মৃতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে আসবো। সেইসঙ্গ সব ধরনের সহায়তা করবো।’