কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. সারওয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ‘কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জিএম থাকাকালে আমার ওপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে শরীফ উদ্দিন অত্যাচার, নির্যাতন ও জুলুম করেছেন।’
বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে সারওয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘তার (শরীফ) শাশুড়ির নামে থাকা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় চরম আক্রোশে আমাকে গ্রেফতার করে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন। দুই মাসেরও বেশি সময় কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে আমাকে। পাশাপাশি আমার সামাজিক ও পারিবারিক জীবন শরীফের কারণে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।’
তার দাবি, ‘শরীফ আমাকে জড়িয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সম্পর্কে মিথ্যাচার করে চলেছেন। নিজের দুর্নীতি ও অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টা করছেন। তার এ সমস্ত কর্মকাণ্ডে আমার এবং কেজিডিসিএলের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ জনগণও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।’
কেজিডিসিএলের সাবেক এই জিএমের দাবি, শরীফ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় প্রভাবশালী মহলের চাপে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারণে ভাইয়ের দোকানে ক্যাশিয়ার হিসেবে চাকরি কর মানুষের সহানুভূতি আদায়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এর মাধ্যমে দুদকে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আকুতিও জানাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কেজিডিসিএলের গ্রাহক নূরজাহান বেগমের আবেদনের আলোকে ও আমার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে আবাসিক গ্রাহকের ১২টি দ্বৈত চুলা চান্দগাঁওয়ের তার নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে বিক্রি (উত্তর) বিভাগ থেকে ১২টি দ্বৈত চুলা আরেকজন গ্রাহকের নামে নতুন সংযোগের চাহিদাপত্র দিলে গ্রাহক ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেন। এরপর ওই গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়। উক্ত ১২টি দ্বৈত চুলার মাসিক গ্যাস বিল গ্রাহক নিয়মিত পরিশোধ করেন। এতে কেজিডিসিএল ও রাষ্ট্র কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কোনও নাগরিককেও তার সুবিধা থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করা হয়নি। অথচ এ বিষয়ে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গ্রেফতারের পর মামলা করেন শরীফ। যেখানে কেজিডিসিএলের কর্মকর্তা হিসেবে জিএম ও ডিজিএমকে আসামি করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক টেকনিশিয়ান মো. দিদারুল আলম, ব্যবসায়ী হাজী দেওয়ান ও ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর দুদকে যোগ দেন শরীফ উদ্দিন। প্রথম তিন বছর ময়মনসিংহ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। দুদকের এই কর্মকর্তাকে ২০২১ সালের ১৬ জুন চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছিল। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের চাকরি বিধিমালা ৫৪-এর ২ ধারায় কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাবলে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
কক্সবাজারে ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ একাধিক মামলা করেন। যেখানে যুক্ত আছেন একাধিক প্রভাবশালী।