পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা: ছিনিয়ে নেওয়া ২ জনসহ ৫ জন রিমান্ডে

চট্টগ্রামে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার পর গ্রেফতার দুই মাদক কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালত শুনানি শেষ এ আদেশ দেন।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন— আটকের পর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি মোহাম্মদ হানিফ ও মহিউদ্দিন শরীফ। তাদের ছিনিয়ে নিতে সহায়তাকারী মোহাম্মদ হানিফের ভাই তৃতীয় লিঙ্গের ইয়াসিন, রেজাউল করিম ও মোহাম্মদ হৃদয়।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান জানান, ‘পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুইজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচজনের সাত দিন করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ মামলায় প্রথমে আটজন এবং পরে আরও পাঁচজনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০০ থেকে ২১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।’

এর আগে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) নগরী ও জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ১৯ নভেম্বর রাত ৯টায় চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হানিফ ও মহিউদ্দিন শরীফকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আটক হানিফের বোন নাজমা আক্তার (৩০) নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় কালুরঘাট এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী হানিফ ও মহিউদ্দিন শরীফকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। আটকে নেতৃত্ব দেন কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রোকনুজ্জামান। আটককৃতদের কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে আনার পর কয়েকজন হিজড়াসহ তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে দেলোয়ার ও হানিফকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে নাজমা আক্তার নামে গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।