ম্যাজিস্ট্রেট সংকটে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন

কক্সবাজারচরম ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের সৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে। এ কারণে প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কাজ সামলাতে গিয়ে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটদের খেতে হচ্ছে হিমশিম। জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘শুধু সংকট নয় চরম ম্যাজিস্ট্রেট সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য আমি খুবই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। কয়েকবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সংস্থাপন শাখা সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পদ রয়েছে ২২টি। তার মধ্যে এ গ্রেড-১৭ জন, বি- গ্রেড-৫ জন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত রয়েছেন ১২ জন। এদের মধ্যে দায়িত্বরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৬ জনই রয়েছেন প্রশিক্ষণে। একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে।
বর্তমানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে নিযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হলেন- এম. এম. মাহমুদুর রহমান, তুষার আহমেদ, মাহমুদুল হক, এবিএম এহছানুল মামুন, মোজাম্মেল হক রাসেল, উপমা ফারিসা, শাহরীন ফেরদৌসী, ফাহমিদা মোস্তফা, আবু বাক্কার ছিদ্দিক, মো. রাফিউল আলম, নীলিমা রায়হানা ও পিএম ইমরুল কায়েস। বর্তমানে তাদের মধ্যে ৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন এম.এম. মাহমুদুর রহমান, শিক্ষা ও আইসিটি সহকারী কশিনারের দায়িত্ব পালন করছেন তুষার আহমেদ, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন মাহমুদুল হক, নেজারত ডেপুটি কালেক্টরের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন এবিএম এহছানুল মামুন, সহকারী কমিশনার হিসেবে রয়েছেন শুধু মোজাম্মেল হক রাসেল।
অন্য ৭ জনের মধ্যে প্রশিক্ষণে রয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন- উপমা ফারিসা, শাহরীন ফেরদৌসী, ফাহমিদা মোস্তফা, আবু বাক্কার ছিদ্দিক, মো. রাফিউল আলম ও পিএম ইমরুল কায়েস। তারা সবাই ৬ মাসের প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এরইমধ্যে তিনমাস অতিবাহিত হয়েছে। আরও তিনমাস পর তারা কর্মস্থলে ফিরবেন বলে সূত্র জানায়। এছাড়া মাতৃকালীন ছুটিতে রয়েছেন নীলিমা রায়হানা। তিনি জানুয়ারির শেষের দিকে ছুটিতে গেছেন। মাতৃকালীন ৬ মাসের ছুটি শেষে আগামী জুলাই মাসে তিনি কর্মস্থলে ফিরবেন। একদিকে পদ সংখ্যার অর্ধেক পদায়ন অন্যদিকে নিযুক্তদের অধিকাংশই কর্মস্থলের বাইরে থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিভাগীয় কর্ম সম্পাদন, ভিআইপি সমাদরসহ জেলা প্রশাসনের আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা প্রশাসনের জে.এম শাখা সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত রয়েছেন শুধু মোজম্মেল হক রাসেল। তার নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহে শুধু ৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে জেলা প্রশাসন।
/জেবি/এএইচ/আপ-এআর/