ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উপনির্বাচন

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন উকিল আবদুস সাত্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

বুধবার (০৪ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে আবদুস সাত্তারের পক্ষে তার ছেলে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দফতরে উপস্থিত হয়ে এ মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

এ সময় মাঈনুল হাসান ভূঁইয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক কমিটির শতাধিক নেতাকর্মী। এ বিষয়ে জানতে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়াকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। পরে এসএমএস করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলেও কোনও উত্তর দেননি মাঈনুল হাসান।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আবদুস সাত্তারের পক্ষে তার ছেলে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর বিএনপির অন্যান্য এমপিদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। গত ২৩ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এজন্য রবিবার রাতে (০১ জানুয়ারি) তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। রবিবার রাতে দলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পর ২ জানুয়ারি দুপুরে সরাইল উপজেলা বিএনপি ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে সরাইল ও আশুগঞ্জে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়াকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সালে প্রথম তৎকালীন কুমিল্লা-১ (নাসিরনগর ও সরাইলের একাংশ) বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ২৭ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

তবে ২০০১ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। ওই আসন থেকে চারদলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন মহাসচিব মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আবদুস সাত্তারকে টেকনোক্র্যাট কোটায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী করা হয়।