চট্টগ্রামে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় চালকের গাফিলতি ছিল  

চট্টগ্রামের হালিশহর গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) লাইনচ্যুত হয়ে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য চালকের গাফিলতি ছিল। দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. আবিদুর রহমান রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়ে গঠিত কমিটি শনিবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য কমিটি দুটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে একটি হয়েছে ত্রুটিপূর্ণ ‘ট্র্যাক’- এর কারণে। আর অপর কারণটি ছিল চালকের গাফিলতি। রিপোর্টে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে কমিটি। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট গুরুত্বসহকারে আমলে নিচ্ছি।’

শুধু তাই নয়। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির ইঞ্জিনও দীর্ঘদিনের পুরনো ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই ইঞ্জিনের মেয়াদও অনেক আগেই অতিবাহিত হয়েছে। বগিগুলোর মধ্যেও কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বলেও মত  রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের।

এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রেন দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কাছে তিন সদস্যের গঠিত কমিটি এ রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আমাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) সন্ধ্যা ৭টায় তেলবাহী ট্রেনটি প্রবেশের সময় ট্রেনের তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। পতেঙ্গা এলাকার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থেকে রেলওয়ের নিজস্ব পরিবহনে ডিজেল নিয়ে সিজিপিওয়াই প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব তেল নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। প্রতিটি ওয়াগনে প্রায় ৩০ হাজার লিটার করে ডিজেল ছিল। ওয়াগন থেকে পড়ে যাওয়া তেল খাল এবং নদীতে মিশেছে। প্রায় ২২ ঘন্টা পর দুর্ঘটনার কবলিত ট্রেনের তিনটি ওয়াগন পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেলওয়ে মহাপরিচালক (জিডি) প্রকৌশলী মো. কামরুল আহসান। তিনি সিজিপিওয়াই এলাকার ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি এ দুর্ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

সিজিপিওয়াই স্টেশন মাস্টার আবদুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার কবলিত ট্রেনটিতে দু’জন চালক ছিল। এরমধ্যে একজনের পদবী লোকমোটিভ মাস্টার, অপর জনের পদবী সহকারী লোকমোটিভ মাস্টার। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কি পাওয়া গেছে তা আমার জানা নেই। চালকদের বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তাও আমি শুনিনি।’