আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৫

লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সোলাইমান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ চন্দ্রগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। এই প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হয় কামাল হোসেনকে। এই কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আফজাল রোডের মুখে আনন্দ মিছিল বের করে কামাল হোসেন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন পক্ষের লোকজন।এর আগে এই প্রস্তুতি কমিটিকে প্রত্যাখান করে বাজারের নিউমার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবীদার কাজী সোলাইমান ও লিটন পক্ষের লোকজন। এর জের ধরে কাজী সোলাইমান ও লিটন গ্রুপের লোকজন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল গ্রুপের লোকজনের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুর রহিম, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন,আওয়ামী লীগ নেতা শিপন খলিফা, ছাত্রলীগ নেতা এম সজিবসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত তিন পুলিশসহ পাঁচ জনকে সদর হাসপাতাল ও অন্যদের প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

কাজী সোলাইমান ও লিটন নিজেদের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক দাবি করে বলেন, ‘কমিটি বাতিল না করে গোপনে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। এই কমিটি কোনও নেতাকর্মী মেনে নেননি। এর প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও কামাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।’

অপরদিকে প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কামাল হোসেন বলেন, ‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আনন্দ মিছিলে কাজী সোলাইমান ও লিটনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে।’

পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, কমিটি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ আহত হয়েছেন ১৫ জন। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতির চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।