তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি শুধু ষড়যন্ত্রের পথেই হাঁটছে, আর পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। দেশ-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদেশিদের হাতে পায়ে ধরে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যায় কিনা সেই চেষ্টায় তারা সব সময় লিপ্ত আছে। তবে এগুলো করে কোনও লাভ হবে না।’
বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকালে চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর নগরীর এম এম আলী রোডের ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে তথ্যমন্ত্রী এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর বিশেষ সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর এন্ড্রে সেনকেনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবদের নিজেদের ওপরই আস্থা নেই। ক্রমাগতভাবে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলে এক সময় পুরো বিএনপি দলটাই জনগণের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, “নিজেদের ওপর আস্থা নেই বলেই বিএনপি জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে, সেটা তারা জানে। যার কারণে বিএনপিকে নির্বাচন ভীতিতে পেয়ে বসেছে। সেজন্য ছাপানো ব্যালটেও ‘না’ এবং ইভিএমেও ‘না’ বলছেন তারা।”
তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন বিএনপি ২০০৮ সালের নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে অংশগ্রহণ করেও মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচন থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডান-বাম, অতি ডান-অতি বাম এবং তালেবানসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্য করেছিল। ঐক্য করে তারা আসন পেয়েছিল মাত্র ছয়টি। পরে নারী আসনসহ হলো মোট সাতটি। সেজন্য তারা জানে এই নির্বাচনেও তাদের কোনও সম্ভাবনা নেই। সেজন্যই নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বিএনপি ও তাদের মিত্রদের কোনও আস্থা নেই।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন অনেকটা তাদের দাবি মেনে নিয়েই ইভিএম থেকে সরে প্রিন্ট ব্যালটে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর দাবিটাই মেনে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এখন নির্বাচনের জন্য যদি তারা দল গোছায় এবং নির্বাচনে আসে সেটি তাদের জন্যই মঙ্গল হবে।’
এর আগে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর বিশেষ সমাবর্তনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর বহু গ্র্যাজুয়েট এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তারা সমাজের অগ্রগতিতে এবং সমাজে নারীদের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে চলছেন।’
তিনি বলেন, ‘এটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ১৪০ একর জমি বরাদ্দ করেছে। এটিই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ডের চেয়ারম্যান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রামে একটি মেডিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সরকারের কাছে আরও জমি বরাদ্দের আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে নারীদের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন দেশের প্রতিটি সেক্টরে নারীরা কাজ করছেন। আমাদের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, পুলিশের এসপি-ডিসি আছেন নারী। মাত্র ১২ বছর আগেও একজন নারী ডিসি বা এসপি অথবা ইউএনও হবেন তা কল্পনাও করা যায়নি। এখন দেশে অনেক নারী ইউএনও মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষিতই নন, স্বনির্ভরও হয়ে ওঠেন, সমাজে অবদান রাখার যোগ্যতা অর্জন করেন।’
বিশেষ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর ডিন ডেভিট টেইলর বীনাকোনা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর কামাল আহমেদ, বর্তমান ভিসি রুবানা হক, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর এন্ড্রে সেনকেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নেহাল আহমেদ প্রমুখ।