জামিনে থাকা সাংবাদিককে রাতে তুলে নিয়ে হয়রানির অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামে পারিবারিক মামলায় জামিনে থাকা এক সাংবাদিককে জোরপূর্বক তুলে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার (৫ এপ্রিল) রাত সোয়া ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে উঠিয়ে নেন এএসআই মমিন।

ওই সাংবাদিকদের নাম সাইদুন নবী। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

সাংবাদিক সাইদুন নবী অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি পারিবারিক মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এই মামলায় ২৯ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন ৩০ মার্চ জামিনের অনুলিপি সীতাকুণ্ড থানায় জমা দেন তিনি।

ওই সাংবাদিকের দাবি, কিন্তু জামিনের অনুলিপি থানায় জমা দেয়া সত্ত্বেও এই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা জানিয়ে বুধবার রাতে বাড়ি থেকে জোর করে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ওই সময় নিজেকে এসআই বলে পরিচয় দেন এএসআই মমিন। বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার সময় তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। ফোনে বোনকে জানাতে গেলে তখন ফোনও কেড়ে নেন। তবে একপর্যায়ে পেশাগত পরিচয় জানার পর তার আচরণ বদলে যায়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই মমিন বাংলা ট্রিবিউনকে দাবি করেন, ‘স্ত্রীর মামলায় সাইদুন নবীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। তাকে গ্রেফতারের জন্য ওয়ারেন্টটি আমার নামে ইস্যু করেছিলেন ওসি স্যার। এ কারণে আমি আরও দুজন কনস্টেবলকে নিয়ে গ্রেফতারে রাতের বেলায় তার বাড়িতে অভিযান চালাই। গ্রেফতার করে সিএনজি করে কিছু দূর নিয়ে আসার পর তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আগাম জামিন নিয়েছেন। পরে থানা থেকেও আমাকে ফোন করে জানানো হয়, তার জামিননামা থানায় পৌঁছেছে। বিষয়টি জানার পর সীতাকুণ্ডের বটতল এলাকায় তাকে সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে আরেকটি সিএনজিতে সম্মানের সঙ্গে তুলে দেই।’

এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ বলেন, ‘ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। বর্তমানে আমিই সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসির দায়িত্বে আছি। সাইদুন নবীর সঙ্গে কী হয়েছে বিষয়টি এএসআই মমিনের কাছ থেকে জেনে জানাবো।’

এ বলে তিনি কল কেটে কয়েক মিনিট পর আবার কল করে বলেন, ‘এএসআই মমিনের কাছ থেকে জেনেছি। সাইদুন নবীর বিরুদ্ধে করা এক পারিবারিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে তাকে গ্রেফতার করতে গেছেন। পরে যখন জানলেন, ওই মামলায় তিনি জামিন নিয়েছেন তখন তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তুলে আনার বিষয়টি সঠিক নয়।’

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) এ বি এম নায়হানুল বারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালতে মামলাটি করেন কুনসুমা জান্নাতুল শম্পা। তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৫ ও ২০ মার্চ সীতাকুণ্ড উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর এলাকায় তার বাড়িতে দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য দুই দফা তাকে মারধর করেন স্বামী মো. সাইদুন নবী।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, বাদী ২৬ ডিসেম্বর থেকে তার নিজ পৈতৃক বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে তিনি আর স্বামীর সঙ্গে দেখা করেননি।

সাংবাদিক সাইদুন নবী দাবি করেন, ‘যৌতুক দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে হয়রানির জন্য মিথ্যা অজুহাতে এ মামলা করা হয়েছে। স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করলেও তাদের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাইনি।’