এবার ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনতে যাত্রীদের ভিড় নেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে ঈদের ১০টি আন্তঃনগর এবং স্পেশাল ট্রেনের অগ্রিম টিকিট স্টেশনের কাউন্টারে নয়, প্রথমবারের মতো এসব ট্রেনের শতভাগ অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে অনলাইনে। অন্যান্য মেইল এবং স্ট্যান্ডিং (দাঁড়ানো) ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে স্টেশনের কাউন্টারে।
তবে অনলাইনে সার্ভার ত্রুটিসহ টিকিট কিনতে নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জাফর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার ঈদে চট্টগ্রাম থেকে ১০টি আন্তঃনগর, মেইল এবং স্পেশাল ট্রেনে অতিরিক্ত বগি মিলিয়ে প্রতিদিন ১২ হাজারের মতো ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে শুধু ১০টি আন্তঃনগর ট্রেনে সাড়ে ৭ হাজার টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যান্য স্পেশাল ট্রেনের টিকিটও অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে মেইল ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে স্টেশনের কাউন্টারে। এছাড়া এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সুবিধার্থে শোভন শ্রেণির (নন এসি) মোট আসনের ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট (স্ট্যান্ডিং) যাত্রার দিন কাউন্টারে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও জানান, ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে ৭ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিন। ফিরতি যাত্রীদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে ১৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সদর দফতর (সিআরবি) সূত্র জানায়, শুক্রবার (৭ এপ্রিল) থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন বিক্রি করা হয় ১৭ এপ্রিল যাত্রার টিকিট। শনিবার (৮ এপ্রিল) বিক্রি করা হয় ১৮ এপ্রিলের টিকিট। রবিবার (৯ এপ্রিল) বিক্রি করা হয় ১৯ এপ্রিলের টিকিট। সোমবার (১০ এপ্রিল) বিক্রি করা হচ্ছে ২০ এপ্রিল যাত্রার টিকিট এবং মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বিক্রি করা হবে ২১ এপ্রিল যাত্রার টিকিট।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে পূর্বাঞ্চলে পাঁচটি রুটে সাতটি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। এসব ট্রেনে আসন থাকবে দুই হাজার ৪০০টি। এরমধ্যে প্রথমবারের মতো চাঁদপুর-সিলেট রুটে একটি, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে একটি করে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদে এ দুটি রুটে আগে কখনও বিশেষ ট্রেন চলাচল করেনি। চাঁদপুর-সিলেট রুটের বিশেষ ট্রেনে আসন ৪৮৮টি। এই ট্রেন সিলেট থেকে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চাঁদপুর পৌঁছাবে রাত সোয়া ১২টায়। চাঁদপুর থেকে বিকাল ৪টায় ছেড়ে সিলেটে পৌঁছাবে রাত ১২টায়। চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটে বিশেষ ট্রেনে আসন রয়েছে ৪০০টি। এ ট্রেন রাত ১০টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবে। ময়মনসিংহ থেকে রওনা দেবে বেলা ১১টায়।
এছাড়াও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে দুটি বিশেষ ট্রেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনকে এ রুটে ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি ট্রেনে আসন রয়েছে ৫১৪টি করে এক হাজার ২৮টি। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ চাঁদপুরের উদ্দেশে চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়বে প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টায়। চাঁদপুর থেকে রওনা দেবে বিকাল সাড়ে ৩টায়। চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২ চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছাড়বে বেলা ৩টা ২০ মিনিটে। ওই ট্রেন চাঁদপুর থেকে ছাড়বে সকাল ৬টায়।
এদিকে, অনলাইনে টিকিট নিতে যাত্রীদের নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেকেই। চট্টগ্রামের ইপিজেডে কর্মরত নজরুল ইসলাম জানান, ‘আমার বাড়ি সিলেটে। ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য দ্বিতীয় দিন চেষ্টা করেও অনলাইনে টিকিট নিতে পারিনি। অনেক সময় রেলওয়ের টিকিট সার্ভারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। আবার প্রবেশ করা গেলেও টিকিট নিতে নানা সমস্যা হচ্ছে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘ঈদযাত্রাকে আনন্দদায়ক করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০টি আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচটি রুটে চলাচল করবে সাতটি স্পেশাল ট্রেন। ঈদে একদিনে চট্টগ্রাম থেকে ১২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’