ট্রলারে ১০ লাশ: আদালতে দুই আসামির জবানবন্দি, যা বললেন রিমান্ডে

কক্সবাজারের নাজিরারটেক উপকূলে ভাসমান ট্রলার থেকে ১০ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার (৩০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চজ্ঞার আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন বাঁশখালীর ফজল কাদের মাঝি ও আবু তৈয়ব মাঝি। তারা তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন।

রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক দূর্জয় বিশ্বাস দুজনকে আদালতে হাজির করেন। তিনি জানিয়েছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন দুজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুজন কক্সবাজার সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চজ্ঞার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে কী বলেছেন তিনি জানেন না। এটা আদালতের বিচারক জানবেন।

তিনি জানান, রিমান্ডে এই দুই আসামি স্বীকার করেছেন, ৯ এপ্রিল সাগরে একটি ট্রলারকে (সামশু মাঝির) ঘিরে ৭-৮টি ট্রলারের লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে মারতে দেখেছেন। যারা মারধর করছিলেন তারা সবাই মহেশখালীর মানুষ। আর তারা বাঁশখালীর বাসিন্দা। ফলে এ দুজন ঘটনাস্থল থেকে বাঁশখালী চলে গেছেন।

এদিকে, এ মামলায় গত ২৫ এপ্রিল চকরিয়া উপজেলার বদরখালী এলাকা থেকে গিয়াস উদ্দিন মুনির (৩২) নামের একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুনির বদরখালী এলাকায় মো. নুর নবীর ছেলে।

রবিবার দুপরে কক্সবাজার সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীজ্ঞান তঞ্চজ্ঞা আসামি মুনিরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাকে যেকোনও সময় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিয়ে যাবে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

তিনি জানান, আদালতের আদেশে করা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি মাতারবাড়ি এলাকার ট্রলার মালিক বাইট্টা কামাল ও চার নম্বর আসামি ট্রলার মাঝি করিম সিকদারের পাঁচ দিনের রিমান্ড রবিবার শেষ হচ্ছে। সোমবার ওই দুজনকেও আদালতে পাঠানো হবে।

এই দুই আসামির কাছে কী তথ্য পাওয়া গেছে সেটা জানাতেও অপারগতা প্রকাশ করেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

গত রবিবার (২৩ এপ্রিল) গুরা মিয়ার মালিকানাধীন একটি ট্রলার সাগরে ভাসতে দেখা যায়। ট্রলারটি নাজিরারটেক উপকূলে নিয়ে এলে সেটির হিমাগারে হাত-পা বাঁধা ১০ জনের লাশ পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া ছয় জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করলেও মর্গে রয়ে গেছে চার জনের লাশ। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তাদের পরিচয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল গ্রেফতারের পর বাঁশখালীর কুদুকখালী এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে ফজল কাদের মাঝি (৩০) ও শামসুল আলমের ছেলে আবু তৈয়ব মাঝিকে (৩২) পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিল র‍্যাব। এরপর আদালতে নির্দেশে গত ২৭ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। এর আগে আসামি বাইট্টা কামাল ও করিম সিকদারকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আগামীকাল সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।